যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামেনি। নতুন করে চালানো হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সময়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। আর এটিই পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৭ জন।

এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে অবস্থান করা ‘জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’। পরে আইডিএফ জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে কামান ও বিমান হামলা চালিয়েছে।

তাদের দাবি, এসব স্থান থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। আইডিএফ আরও জানায়, লেবাননে হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন হামলায় তাদের ১৯ বছর বয়সী এক সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।

এদিকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে তিনটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে আইডিএফ দাবি করেছে। তবে এগুলো সীমান্ত অতিক্রমের আগেই ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ভূপাতিত করে।

গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি দুই দেশ এখনও বজায় রেখেছে। গত বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সম্ভাব্য বা চলমান হামলার বিরুদ্ধে যেকোনও সময় আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে।

এদিকে সরকারি বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননে আইডিএফ সক্রিয়ভাবে ও শক্ত অবস্থানে কাজ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবাননের সঙ্গে যেসব শর্তে আমরা একমত হয়েছি, তার ভিত্তিতেই আমরা কঠোরভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছি। শুধু হামলার জবাব দেয়া নয়, তাৎক্ষণিক ও উদীয়মান হুমকিও প্রতিরোধ করা হচ্ছে।’

রোববারের এই হামলার আগে আইডিএফ জানায়, তারা রাতভর হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে এবং ইরানসমর্থিত এই গোষ্ঠী দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ইসরায়েলের দিকে পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। গত শনিবার নেতানিয়াহু লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ‘কঠোর হামলা’ চালানোর নির্দেশ দেন। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার আবারও পাকিস্তানে যান। সেখানে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া যায়।

আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশ সফরের অংশ হিসেবে আরাগচি গত শনিবার ইসলামাবাদে যান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি ওমানে যান। সেখান থেকে রোববার আবারও পাকিস্তানে আসেন পরে মস্কোর উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন