যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, পাম বন্ডির পরিবর্তে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সাময়িকভাবে দায়িত্ব পরিচালনা করবেন। ব্ল্যাঞ্চ ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত।
দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, বিশেষ করে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে বিতর্কের জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
বন্ডিকে মহান দেশপ্রেমিক ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প তার অধীনে অপরাধ দমনে বড় সাফল্যের কথা বলেছিলেন।
নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বন্ডি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে দেশের নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করা ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রও তুলে ধরছে। সূত্র বলছে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বন্ডির কাজে অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে তিনি চেয়েছিলেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে দ্রুত ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যা বন্ডির অধীনে প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় জেফরি এপস্টেইনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে। বন্ডির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি নথি প্রকাশে গড়িমসি করেছেন কিংবা যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারেননি। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একাংশও এ নিয়ে তার সমালোচনা করেন।
এপস্টেইন কাণ্ড নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে ট্রাম্পের ওপরও। কারণ অতীতে তার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক ছিল। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, বহু আগেই সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে।
বন্ডির মেয়াদকালে বিচার বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। সমালোচকদের মতে, তিনি বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা নীতি ভেঙে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় বাড়ান। ট্রাম্পবিরোধী তদন্তে যুক্ত অনেক অভিজ্ঞ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ডিক ডারবিন অভিযোগ করেছেন, বন্ডি বিচার বিভাগকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতেও তাকে সন্তুষ্ট করা যায়নি।
এর আগে গত ৫ মার্চ ট্রাম্প তার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

