গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা খুব একটা ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। কেননা, এসব হামলা ছিল বিক্ষিপ্ত এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝপথে আটকে দেওয়া হয়েছিল।
তবে কয়েক মাস পরই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে একটি হুতি ড্রোন তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
ইসরায়েলের ওপর ইয়েমেনের হুতিদের আবার হামলা শুরু হওয়া দেশটির জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে; যদিও এটি বড় কোনো সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করার সম্ভাবনা কম। তবে হুতিরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এর প্রভাব হবে নাটকীয়।
এদিকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, এসব হামলার ‘ভয়াবহ‘ জবাব দেবে ইরান।
একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে আবারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি লিখেছেন, “আপনারা যদি নিজেদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান, তবে আমাদের শত্রুদেরকে আপনাদের দেশ থেকে যুদ্ধ পরিচালনার সুযোগ দেবেন না”।
গত কয়েক দিন ধরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অতি-গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
যার মধ্যে ইস্পাহান ও খুজেস্তান প্রদেশের মোবারাকে স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ, মারকাজি প্রদেশের খান্দাব ভারী পানি উৎপাদন কেন্দ্রও রয়েছে।
ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া সৌদি আরবের রিয়াদের কাছে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

