সোমবার । ২৩শে মার্চ, ২০২৬ । ৯ই চৈত্র, ১৪৩২

ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, যার জেরে একাধিক অঞ্চলে সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলবে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান শুরু হয়েছে এবং লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বেসেন্ট আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, এই অভিযানের বাস্তব চিত্র মার্কিন জনগণের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না।

অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে হোয়াইট হাউস এবং তারা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর জবাবে বেসেন্ট এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। এই প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি মানেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে এবং হরমুজে সামরিক সংঘাত তীব্র হয়, তাহলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়—বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য একাধিক ফ্রন্টে উত্তেজনার মুখে রয়েছে—ইসরায়েল-ইরান সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি এবং জ্বালানি রুটের নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুতই আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন