আজ আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উদযাপিত হলো ঈদ। ইসলামী উম্মাহর দেশগুলোয় যখন এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে ঈদ উদযাপনের ধুম প্রস্তুতি ঠিক তখন এক সংঘাতময় বৈরী যুদ্ধ পরিস্থিতির সাথে জড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অপেক্ষাকৃত উদার ও কম বিতর্কিত দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রেখে চলা দেশ এটি। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির আগেও টানা দশ বছর ধরে আবুধাবি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ সিটি। এখন তীব্র আর্তনাদে ফাইটার জেটের ধেয়ে চলা, ইরানী ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন ইন্টারসেপশনে আমিরাতের এয়ার ডিফেন্স এর করিতকর্মা হওয়া, নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল এর সাথে ইরানের যুদ্ধ ২১ দিনে গড়াল। মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অজুহাত দিয়ে এ যুদ্ধে ইরান অ্যারাবিয়ান গালফ তীরবর্তী সবগুলো দেশকে জড়িয়ে ফেলেছে যুদ্ধে।
বুধবার সৌদি আরবের রিয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় একটি সম্মিলিত বিবৃতি জারি করেছে আরব দেশগুলো।
ইরানের “ইচ্ছাকৃত হামলার” তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এই দেশগুলো। তাদের মতে, এ হামলায় আবাসিক এলাকা, বেসামরিক অবকাঠামো এবং কূটনৈতিক ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে এখনো আমিরাতের ক্ষয়ক্ষতির পাল্লা যদিও তেমন ভারী হয়নি, তারপরও এ যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে তার নিশ্চিত প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়বে, বিশ্ব অর্থনীতি যার মাশুল দেবে। তাই প্রবাসীদের প্রত্যাশা জোরালো আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে বন্ধ হোক এ যুদ্ধ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অঞ্চল জুড়ে ঈদুল ফিতরের নামাজ ভোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবুধাবিতে নামাজের স্থানীয় সময় সকাল ৬:৪৪, দুবাইতে সকাল ৬:৪২ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইসলামিক ওয়াকফ ও যাকাত বিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত জুড়ে ঈদের নামাজ শুধুমাত্র অনুমোদিত মসজিদেই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী খোলা আকাশের নিচে ঈদের মাঠে কোনো নামাজের আয়োজন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

