শনিবার । ১৪ই মার্চ, ২০২৬ । ১লা চৈত্র, ১৪৩২

খার্গ দ্বীপে হামলা : তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বিশ্ববাজারে আগে থেকেই বাড়তে থাকা তেলের দামের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও প্রভাষক এড হিরস মনে করেন, এত ছোট একটি দ্বীপে হামলা হলে তেল রপ্তানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ট্রাম্প বলেছেন তেল অবকাঠামো এড়িয়ে হামলা করা হয়েছে। কিন্তু খার্গ দ্বীপ খুবই ছোট। সেখানে যদি খুব ছোট কোনো সামরিক স্থাপনা না থাকে, তাহলে তেল রপ্তানি ব্যবস্থার ক্ষতি হয়নি—এটা কল্পনা করা কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, যদি এই হামলায় ইরানের তেল রপ্তানি সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একই সময় ইরাক ও কুয়েতের উৎপাদন বা রপ্তানিও বন্ধ থাকে, আর যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে থাকে—তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

হির্সের মতে, তেলের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়ার দেশগুলো। কারণ এসব দেশ অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির বড় আমদানিকারক।

শনিবার (১৪ মার্চ) আল জাজিরার লাইভ আপডেটে বলা হয়, আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্টের দাম ২৭ ফেব্রুয়ারি ৭২ দশমিক ৪৮ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে লেনদেন শেষে ১০৩ দশমিক ১৪ ডলার হয়েছে। এতে এক সপ্তাহেই প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও সংঘাত শুরুর পর থেকে ৪৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯৮ দশমিক ৭১ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলাগুলোর একটি পরিচালনা করেছে এবং ইরানের ‘‘ক্রাউন জুয়েল’’ খার্গ দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।’

ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে বলে সাম্প্রতিক এক নোটে জানিয়েছে জেপি মরগান।

ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আয়তনের এই দ্বীপে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে দ্রুত বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন