ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য ইরানকে উন্নত ড্রোন কৌশল দিয়ে সাহায্য করছে রাশিয়া। একজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বুধবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
শাহেদ ড্রোন ইরানের ডিজাইন করা হলেও ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য ব্যাপকভাবে এটি উৎপাদন করেছে রাশিয়া। এই ড্রোন উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে অপ্রত্যাশিতভাবে সফল হয়েছে। ইরানের সাথে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এখন পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে সাধারণ সহায়তা হিসাবে রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কৌশলগত পরামর্শ সমর্থনের একটি নতুন মাত্রার কথা প্রথমবারের মতো জানিয়েছেন ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, “যা সাধারণ সমর্থন ছিল তা এখন আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, যার মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনে যে ড্রোন লক্ষ্যবস্তু কৌশল ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। এই ক্যাটাগরির ড্রোনগুলো একসাথে উড়ছে এবং বিমান প্রতিরক্ষা এড়াতে নিয়মিত পথ পরিবর্তন করছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার এক্স- এ বলেছেন, “রাশিয়া ইরানি সরকারকে ড্রোন দিয়ে সহায়তা করা শুরু করেছে। এটি অবশ্যই ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে এবং এটি তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সহায়তা করছে।”
তিনি জানান, কিয়েভ উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ইন্টারসেপশন বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছে, যাতে তারা তুলনামূলকভাবে সস্তা শাহেদ ড্রোনদের থামাতে ইউক্রেনীয় দক্ষতা ভাগ করে নিতে পারে। ইউক্রেন ক্ষুদ্র ইন্টারসেপটার তৈরি করেছে যার প্রতিটির দাম প্রায় পাঁচ হাজার ডলার এবং এগুলো দ্রুত তৈরি করা যেতে পারে।
উপসাগরে বিস্তৃত হুমকির দিকে ইঙ্গিত করে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন ব্যবহারের পাশাপাশি সমুদ্র-ড্রোন এবং কাঠের তৈরি মাছ ধরার নৌকা ব্যবহার করে মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপগুলোতে নিম্ন প্রযুক্তির আক্রমণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘সত্যিই উদ্বিগ্ন।’
খুলনা গেজেট/এমএনএস

