সোমবার । ৯ই মার্চ, ২০২৬ । ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২

‘ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর অবশেষে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রবিবার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আসামি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। কারণ হাদি হত্যার পর বাংলাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল ।

সূত্রটি জানায়, সম্প্রতি ডিজিএফআইয়ের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। তিনি এই সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে হাদী হত্যা মামলার আসামিসহ সকল সন্ত্রাসীদের আটক করে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানোর জন্য চাপ দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত ২ খুনের আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এছাড়াও, বাংলাদেশের আহবানের প্রেক্ষিতে ভারতে বসে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান চালাবে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে, আটক হওয়া দুই ব্যক্তিকে রবিবার (৮ মার্চ) বিধাননগর আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে তারা ফের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

এসটিএফ সূত্রে খবর, গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন দুজনেই হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা উভয়ই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। সবশেষে তাদের অবস্থান ছিল বনগাঁয়।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার তাদের স্থানীয় আদালতে তোলা হলে তাদের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ওই দুই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় এসটিএফের তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন