আফগান সীমান্তের ওপার থেকে উসকানিমূলক হামলার অভিযোগ এনে অপারেশন ‘গজব লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তান। ওই অপারেশনে আফগান তালেবান সরকারের ৪৬৪ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে ১৮৮টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং দখলে নেয়া হয়েছে আরও ৩১টি চেকপোস্ট।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ তথ্য জানিয়েছেন।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই অভিযান চালানো হয়। আফগান তালেবান বাহিনী একাধিক স্থানে গুলি চালালে পাকিস্তান দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়া জানায়। গত সপ্তাহ থেকেই দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা চলছিল, যা শুরু হয় পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তানের সীমান্ত অভিযানের পর।
ইসলামাবাদ বলছে, ফেব্রুয়ারিতে চালানো তাদের বিমান হামলা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করেই ছিল। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্টোবরের সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা। এসব সহিংসতার জেরে দুই দেশের স্থল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে প্রায় বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেল ৪টা পর্যন্ত আফগান তালেবান সরকারের ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরে পাক তথ্যমন্ত্রী জানান, ৬৬৫ জনের বেশি আফগান যোদ্ধা আহত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৯২টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও কামান ধ্বংস করা হয়েছে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫৬টি স্থাপনায় কার্যকরভাবে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে তারার জানান, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় পৃথক অভিযানে অন্তত ৬৭ জন তালেবান সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বেলুচিস্তান ফ্রন্টিয়ার কোরের (এফসি) একজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী এখনো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন জেলায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলার জবাব দিচ্ছে। বেলুচিস্তানের কিল্লা সাইফুল্লাহ, নোশকি ও চামান জেলায় মোট ১৬টি সরাসরি হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা, যা নিরাপত্তা বাহিনী সফলভাবে প্রতিহত করেছে। আরও ২৫টি স্থানে গুলিবর্ষণের চেষ্টা হলেও সেগুলোও ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে বলে জানান পাক তথ্যমন্ত্রী।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

