বৃহস্পতিবার । ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২
আল জাজিরার বিশ্লেষণ

মোদির ইসরায়েল সফর, পাকিস্তানের কপালে চিন্তার ভাঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দুইদিনের সফরে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলে পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মন জয় করার জন্য একের পর এক চমক দিয়ে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিমানবন্দরে স্বয়ং নেতানিয়াহু হাজির হয়ে মোদিকে লাল গালিচায় উষ্ণ স্বাগত জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মোদি জ্যাকেট পরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে সারপ্রাইজ দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৭ সালে মোদি প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফর করে ইতিহাস গড়েছিলেন। সেটি ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর।

মোদির শাসনামলে গত এক দশকে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত গভীর ও আস্থায় পরিণত হয়েছে। মোদির এবারের এই সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে। দেশ দুইটির মধ্যে এবার বেশ কয়েকটি বড় চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মোদি গতকাল ইসরায়েল সফরের প্রথমদিন দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দিয়েছেন। সেই সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত স্পিকার, বিরোধীনেতা ও আইনজীবীরা মোদিকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে তারা ভারতের সঙ্গে জোরালো সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ওই অঞ্চলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়লের কড়া সমালোচক। এবং সৌদি আরব ও পাকিস্তান ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। এই তিনটি দেশই সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। এমন প্রেক্ষাপটে ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্ক অঞ্চলটিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

ভারত এখন ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র ক্রেতা। এবারের মোদির এজেন্ডায় রয়েছে দুইদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ও চুক্তি।

ইসরায়েল ভারতীয় অবকাঠামো কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী, আর ভারত ইসরায়েলের উচ্চপ্রযুক্তি দক্ষতাকে কাজে লাগাতে চায়।

এ ছাড়া নেতানিয়াহু একটি নতুন আঞ্চলিক জোট—সম্ভাব্য ‘হেক্সাগন’ উদ্যোগ গঠনের কথা বলেছেন। সেখানে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে ইসরায়েল, ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের নাম এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান মোদির এই সফরকে একটি নির্ণায়ক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, মোদি ও নেতানিয়াহু হয়তো একটি বিশেষ কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছেন, যা গত বছর পাকিস্তান-সৌদির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতিরূপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

রিয়াদভিত্তিক কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের সহযোগী ফেলো উমর করিম বলেন, এটা স্পষ্ট যে ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে প্রবেশ করেছে।

মাসুদ খান বলেছেন, সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত চুক্তি, সেইসঙ্গে তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সরাসরি ইসরায়েলের হিসাব-নিকাশকে প্রভাবিত করে। আর এটি মোকাবিলা করার জন্য ইসরায়েল দিল্লির সঙ্গে তার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার বৃদ্ধি করবে।

তার মতে, মোদি যেহেতু ইসরায়েলে তাই তিনি নেতানিয়াহু এবং সেখানকার অন্যান্য নেতাদের পাকিস্তান সম্পর্কে প্রতিকূলভাবে চিন্তা করার বিষয়টি প্রয়োগের চেষ্টা করবেন। মাসুদ খানের এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ শোয়েব।

তিনি বলেন, ইসরায়েল-ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাকিস্তানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন