যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, গত বছর মার্কিন হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের উদ্যোগও চলছে।
ইরান ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে এবং আবারও পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানই তার অগ্রাধিকার, তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র পিছপা হবে না।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইতোমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা ইউরোপ ও বিদেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি দাবি করেন, তেহরান এখন এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজ করছে যা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারবে।
২০২৫ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, তেহরান চাইলে ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিকভাবে কার্যকর আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। তবে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংস্থাটি কিছু বলেনি।
মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে স্বল্প ও মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলোর সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ১৮৫০ মাইল বা ৩ হাজার কিলোমিটার। অন্যদিকে, ইরানের পশ্চিম প্রান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের দূরত্ব ৬ হাজার মাইলেরও বেশি।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি নতুন চুক্তির লক্ষ্যে দুই দফা আলোচনা শেষ করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে আগের চুক্তি বাতিল করেছিলেন। বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ইরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বারবার বলেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে নেই।
এর আগে গত বছর ট্রাম্প তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেন এবং পরে দাবি করেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইরান আবারও নতুন করে কর্মসূচি শুরু করতে চায় এবং এই মুহূর্তে ‘অশুভ পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ অনুসরণ করছে তারা।
আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ বড় আকারের মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছেন। পাশাপাশি এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ, বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। তেহরানের সঙ্গে পরবর্তী দফা আলোচনা বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার পছন্দ কূটনৈতিক সমাধান। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত, বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে আমি কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না।’
খুলনা গেজেট/এমএনএস

