শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে সম্ভাব্য হামলায় সহায়তাস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে ব্রিটিশ সরকার অনুমতি দেয়নি বলে ধারণা পেয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন হামলার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর গ্লুচেস্টারশায়ারের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহার করেছিল।

যুক্তরাজ্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারে অনুমতি না দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তড়িঘড়ি মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তর ও তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিটি ফের লিজে নিতে কিয়ার স্টারমারের চুক্তির সমালোচনা করেন, বলেছে টাইমসের প্রতিবেদন।

যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, “নিয়ম অনুযায়ীই, আমরা অপারেশনাল বিষয়ে কোনো মন্তব্য করি না।”

ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে কোনো চুক্তি না হলে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ওপর হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়ে আসছে তারা। ওয়াশিংটন এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অসংখ্য যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে, তাদের ঘাঁটিগুলোতে সৈন্য ও সমরাস্ত্রেরও ব্যাপক নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে।

এই যুদ্ধ প্রস্তুতির পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে আলোচনাও চলছে। সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের আলোচনায় ‘খানিক অগ্রগতিরও’ খবর মিলেছে।

তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাচ্ছে না সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তা বিশ্ব ‘সম্ভবত দিন দশেকের মধ্যেই দেখতে পাবে’।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান, যাতে যুক্তরাজ্যের সমর্থন আছে। ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না, আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা।”

চাগোস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়ার পর মঙ্গলবার ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে ফোনে কথা হয়।

টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, ফোনালাপে দুই নেতা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের আলটিমেটাম নিয়ে কথা বলেন এবং পরদিনই ট্রাম্প চাগোস চুক্তি নিয়ে আক্রমণাত্মক বিবৃতি দেন।

ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে পেন্টাগনের যে প্রস্তুতি, তাতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সর্ববৃহৎ দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব টের পেয়েছেন বলে ভেতরের খবরাখবর রাখা অনেকেই ধারণা করছে, বলছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মার্কিন বাহিনী এবার দিয়েগো গার্সিয়ার ঘাঁটিকে কাজে লাগাতে পারে বলে অনেকেরই অনুমান।

ট্রাম্প চাগোস চুক্তির বিরোধিতা করে তার ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “যদি ইরান চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে একটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শাসনব্যবস্থার দিক থেকে আসা সম্ভাব্য হামলা রোধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়তো দিয়েগো গার্সিয়া এবং ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত বিমানঘাঁটি ব্যবহার করা লাগতে পারে।”

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দিয়েগো গার্সিয়া বা ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর ফেয়ারফোর্ডের ঘাঁটির কোনোটিই ব্যবহার করেনি।

সেসময় ওয়াশিংটন ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতিও চায়নি বলে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা বিষয়ক ঊর্ধ্বতন এক সূত্র জানিয়েছিল।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘বেলা ওয়ান’ নামে পরিচিত একটি নিবন্ধিত ট্যাংকার জব্দ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ফেয়ারফোর্ড ও অন্যান্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পেরেছিল।

ওই অভিযানে যুক্তরাজ্যের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন ছিল। অভিযানটি আন্তর্জাতিক আইনে বৈধ ছিল বলে সেসময় ব্রিটিশ মন্ত্রীরা দাবি করেছিলেন।

এখন ইরানে মার্কিন হামলায় সহায়তার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ এসে যাবে। দীর্ঘদিনের সমঝোতা অনুযায়ী, সামরিক অভিযানে ঘাঁটি ব্যবহার করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই প্রথমে যুক্তরাজ্যের অনুমতি নিতে হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক আইনে হামলাকারী এবং ‘হামলার বিষয়ে জ্ঞাত’ থেকে তাকে সহায়তাকারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয় না। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাজ্যকেও এই হামলায় জড়িত বলে ধরে নেওয়া যাবে।

জানুয়ারিতে বিবিসি স্টারমারের কাছে তিনি ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলায় সমর্থন দেবেন কিনা তা জানতে চাওয়া হলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ওই প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র বানানো ও বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ কী করে ঠেকানো যায় তা নিয়ে তিনি মিত্রদের সঙ্গে কথা বলছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এবার যুক্তরাজ্যের অনুমতি না নিয়েই ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ফেলতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কাও করছেন। এ কারণে প্রসঙ্গটি নিয়ে আগেভাগে পার্লামেন্টে ভোট চেয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা এড ডেভি।

“মার্কিন বাহিনীর হাতে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিগুলোর ব্যবহার নিয়ে কিয়ার স্টারমারের শক্ত হয়ে দাঁড়ানো এবং পার্লামেন্টে ভোট ডাকা উচিত,” বলেছেন তিনি।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন