শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

বাংলাদেশি ৭৩ জেলেকে আরাকান আর্মির হস্তান্তর

গেজেট প্রতিবেদন

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল ও নাফ নদী এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ৭৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মায়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও আলোচনার পর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সোমবার দুপুরে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল টেকনাফের জালিয়াপাড়া ট্রানজিট ঘাট থেকে নাফ নদীর শূন্য রেখার উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে নাফ নদীর নির্ধারিত পয়েন্টে আরাকান আর্মি সদস্যরা জেলেদের হস্তান্তর করে।

সেখান থেকে তাদের নিয়ে এসে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, জলসীমা অতিক্রম করে মায়ানমার অংশে প্রবেশের অভিযোগে এসব জেলেকে আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে আরাকান আর্মি। তবে এখনো আটক থাকা অন্য জেলেদের ফিরিয়ে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ফেরত আসা জেলে নুরুল আলম বলেন, আটক অবস্থায় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, নিয়মিত খাবার দেওয়া হতো না এবং অনেকেই মারধরের শিকার হয়েছেন। প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরতে পেরেছি—এটাই বড় কথা।

নুরুল আলমের ভাই ছৈয়দ আলম জানান, তার ভাইয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আরেক জেলে বশির আহমেদ জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি আটক হন। বাংলাদেশি পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে ট্রলারসহ অন্তত চার শতাধিক জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে এ দফায় ৭৩ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

বাকিদের মুক্তির বিষয়েও কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ে তৎপরতা চলছে।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন