ইসরায়েলের আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়জন আরব নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শিকার হয়েছেন এক দ্রুজ শেখ এবং এক সাবেক মেয়রের পুত্রসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ইসরায়েলি পুলিশ কমিশনার ড্যানি লেভি দেশটিতে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ জারি করেছেন।
বুধবার সূর্যাস্তের পর হাইফার দক্ষিণে ফুরেইদিস শহরে প্রথম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ কাসেম একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় মুখোশধারী ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে ইলেকট্রিক স্কুটারে চড়ে পালিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ২টার দিকে বেদুঈন শহর রাহাটে তার নিজ গাড়ির ভেতরে গুলি করে হত্যা করা হয় ২২ বছর বয়সী মুখতার আবু মেইদঘিমকে, তিনি ওই শহরের সাবেক মেয়র আত্তা আবু মেইদঘিমের পুত্র। এছাড়া ইয়ার্কা শহরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দ্রুজ শেখ নাজিব আবু রিশকে এবং সেগেভ শালোম ও লড শহরে আরও দুই ব্যক্তিকে দিনের আলোতে গুলি করে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে তামরা শহরে এক নারীকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ছয়-এ পৌঁছায়।
পুলিশ কমিশনার ড্যানি লেভি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের অভাবে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কাজ করছে। তিনি আদালতের পক্ষ থেকে কঠোর সাজা এবং সন্দেহভাজনদের ওপর প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আরব সমাজের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং স্থানীয় নেতারা পুলিশের এই ভূমিকার কড়া সমালোচনা করছেন। রাহাটের সাবেক মেয়র আত্তা আবু মেইদঘিম অভিযোগ করেছেন, সরকার চাইলে দূরদেশের অপরাধীদের ধরে আনতে পারে কিন্তু ঘরের কাছের অপরাধীদের দমনে তারা সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। লড শহরের নিহতের পরিবারগুলোও পুলিশের উপস্থিতিকে কেবল ‘লোক দেখানো’ বলে অভিহিত করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৪৩ দিনেই ৪৭ জন আরব ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৫২, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। চলতি বছরে হত্যার যে গতি দেখা যাচ্ছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৬ সাল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। মূলত অপরাধী চক্রগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব এবং পারিবারিক শত্রুতার জেরেই এসব সাধারণ মানুষ এবং নিরীহ পথচারীরা প্রাণ হারাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

