বুধবার । ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৪ই মাঘ, ১৪৩২

বাংলাদেশিদের যেভাবে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে পাঠানো হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ করছেন বাংলাদেশিরা। এমন তথ্য এখন প্রায়ই শোনা যায়। ভিনদেশি হয়ে আরেক দেশের হয়ে কেন কীভাবে বাংলাদেশিদের ইউক্রেনে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সে তথ্য তুলে এনেছে বার্তাসংস্থা এপি। তারা তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে বিস্তারিত।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে এপি বলেছে, বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় বেসামরিক চাকরির কথা বলে লোভ দেখানো হয়। এরপর যখন তারা রাশিয়ায় যান তখন তাদের জোর করে ইউক্রেনে যুদ্ধের সম্মুখভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

রাশিয়া থেকে পালিয়ে আসা তিন ব্যক্তি ও দেশটিতে নিখোঁজ আরও তিনজনের পরিবার এপিকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, লোভনীয় চাকরির ফাঁদে ফেলে তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়।

রাশিয়ায় যাওয়ার পর তাদের একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। যেটি রুশ ভাষায় লেখা থাকে। বাংলাদেশিরা মনে করেন তারা হয়ত সাধারণ চাকরির কাগজে স্বাক্ষর করছেন। কিন্তু আসলে তাদের সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়।

রাশিয়া থেকে পালিয়ে আসা তিন ব্যক্তি হলেন মাকসুদুর রহমান, মহান মিয়াজি এবং জাহাঙ্গির আলম। তারা তাদের সঙ্গে হওয়া ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

তারা বলেছেন, তাদের দিয়ে যুদ্ধের সম্মুখভাবে রশদ পাঠানো হয়েছে, আহতদের উদ্ধার করানো হয়েছে এবং মৃতদের মরদেহ আনানো হয়েছে। আর এর সবকিছুই করানো হয়েছে জোর করে।

এপি জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

যেভাবে ফাঁদে পড়েছেন বাংলাদেশিরা
দালালরা ২০২৪ সালের শেষদিকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুবকদের কাছে যায়। তাদের তারা বোঝায় রাশিয়ায় গেলে সেনানিবাসে রাঁধুনি, ক্লিনার এবং লন্ড্রি করার কাজসহ ভালো চাকরি পাওয়া যাবে। এমনকি সময় গেলে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগও মিলবে।

দালালের কথার ফাঁদে পড়ে অনেকে ঋণ নিয়ে ও জমি বিক্রি করে রাশিয়ায় যাওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং তাদের হাতে অর্থ তুলে দেন। তাদের বিশ্বাস ছিল রাশিয়ায় গেলে বেতন পেলে সহজেই এসব অর্থ আবার তুলে নিতে পারবেন।

রাশিয়ায় যাওয়ার পরই বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক রুশ ভাষায় লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়। এরপর তাদের সাধারণ সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। যারমধ্যে ড্রোন ট্যাকটিকও আছে। সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। বাংলাদেশে যখন দালালদের যখন তারা এ ব্যাপারে জানান তখন দালালরা জানায় রাশিয়া যেহেতু এখন যুদ্ধে আছে তাই সেখানে প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া স্বাভাবিক বিষয়।

কিন্তু যখন তারা বুঝতে পারেন তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠনো হবে তখন তারা এর বিরোধীতা করেন। এরপরই শুরু হয় নির্যাতন। তাদের মেরে ফেলাসহ শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তখন তারা বুঝতে পারেন লোভনীয় চাকরির বদলে আসলে ফাঁদে পড়ে গেছেন।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ায় গিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে কত বাংলাদেশি যুদ্ধ করছেন সেটি স্পষ্ট নয়। তবে পালিয়ে আসারা জানিয়েছেন এ সংখ্যা কয়েক হাজার হবে।

সূত্র: এপি

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন