শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২

করাচির গুল প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি বেড়ে ৬১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স ‘গুল প্লাজা’র একটি দোকান থেকে ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা এক ব্রিফিংয়ে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই নতুন ৩০টি মরদেহ উদ্ধারের ফলে গত ১৭ জানুয়ারি লাগা ওই অগ্নিকাণ্ডে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। এখনো ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

পুলিশ জানিয়েছে, মার্কেটটির দ্বিতীয় তলায় ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের একটি দোকান থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগুন থেকে বাঁচার জন্য দোকানের ভেতর থাকা মালিক ও কর্মচারীরা ভেতর থেকে শাটার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিধিবাম হিসেবে সেই বদ্ধ ঘরটিই শেষ পর্যন্ত তাদের কবরে পরিণত হয়।

১৯৮০ সালে নির্মিত প্রায় ১ হাজার ২০০ দোকানের এই বিশাল শপিং কমপ্লেক্সটি একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। গত শনিবার প্লাজার বেসমেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের বিশাল বহর টানা ২৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল অপূরণীয়।

এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার পেছনে মার্কেট কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে করাচি ফায়ার সার্ভিস। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানিয়েছেন, বিশাল এই মার্কেটে মোট ২৬টি প্রবেশদ্বার থাকলেও চলাচলের জন্য মাত্র দুটি ফটক খোলা রাখা হতো।

আগুন লাগার সময় বাকি ২৪টি ফটক বন্ধ থাকায় শত শত মানুষ ভেতরে আটকা পড়েন। এছাড়া মার্কেটে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো দীর্ঘকাল ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। করাচির পুলিশপ্রধান এবং কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, সিন্ধ রাজ্য সরকার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

বর্তমানে করাচির এই অগ্নিকাণ্ডকে শহরের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপের ভেতর এখনো তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ধসে পড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর ভেতর আরও মরদেহ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।

সিন্ধ সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো করাচি শহর জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সূত্র: এএফপি

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন