আঠাশ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ সাল। দেশে সামরিক শাসন। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। সে সময় খুলনার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি বিএল কলেজে ছাত্র নেতাদের তৎপরতা চলছে গোপনে। সে দিনের পর্দার আড়ালে তৎপর ছাত্র সংগঠনগুলো হচ্ছে ছাত্রলীগ (আওয়ামী লীগ সমর্থিত), ছাত্রলীগ (জাসদ সমর্থিত), ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন ও ইসলামী ছাত্র শক্তি। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কলেজ অঙ্গণে প্রবেশ করেন। ১৯০২ সালে স্থাপিত হওয়ার পর এ প্রতিষ্ঠানে প্রথম একজন রাষ্ট্র প্রধানের পদার্পণ। বিদ্যাপীঠের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে সংবর্ধনা জানায়। খ্যাতিমান শিক্ষক ইমদাদুল হক তখন কলেজের অধ্যক্ষ। তিনিও রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতির বক্তৃতাদানকালে ছাত্র সমাজকে দেশের উন্নয়নে শরিক হওয়ার আহবান জানান।
রাষ্ট্রপতি দীর্ঘক্ষণ এখানে বক্তৃতা করেন। ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীরা ১৯ দফা কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায়। তিনি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সংকট নিরসনের জন্য একটি বাস উপহারের ঘোষণা দেন। কলেজের অবকাঠামো আধুনিকায়নের পরামর্শ দেন।
শিক্ষার্থীরা খুলনায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সরকার প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দাবিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে আখ্যা দেন। রাতে ছাত্র প্রতিনিধিরা সরকার প্রধানের সাথে সাক্ষাত করেন। এ সময় কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নে শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, আসাদুজ্জামান রিপন, ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, জহিরুদ্দিন স্বপণ, আব্দুল লতিফ প্রমুখ ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন (প্রফেসর মোঃ বজলুল করিম রচিত ব্রজলাল কলেজের ইতিহাস)।

