শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২

৭১-এ স্বোচ্চার কণ্ঠ ‘উই রিভোল্ট’

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ, ১৯৭১। পূর্ব পাকিস্তান নামক ভুখন্ড জুড়ে উত্তপ্ত। ছাত্র যুব সমাজের কণ্ঠে স্লোগান স্বাধীনতা, স্বাধীনতা। বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জুড়ে শ্লোগান ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর। জেনারেল টিক্কা খানের নির্দেশে জেনারেল ফরমান ও জেনারেল রাজা ঢাকায় গণহত্যা চালায়। পিলখানা ও ঢাবি’র জগন্নাথ হলে শত শত লাশ পড়ে আছে। ঢাকার রাজপথে পড়ে ছিল নানা বয়সী নারী -পুরুষের লাশ। বাঙালি দিশেহারা। ২৫ ও

২৬ মার্চের মধ্যবর্তী কালো রাত। রাত ১ টা নাগাদ মেজর জিয়াউর রহমানের ওপর নির্দেশ আসে চট্টগ্রাম বন্দরে নৌ-বাহিনীর ট্রাকে অস্ত্র খালাস করতে হবে। তিনি বন্দরে পৌঁছান। সেখানে পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তা আনছারী অবস্থান করছিলেন। গাড়ি নিয়ে মেজর জিয়া বন্দর অভিমুখে বের হলে পথে পথে বেরিকেডের সম্মুখীন হন। আগ্রবাদ নামক স্থানে তাকে বহনকারী গাড়ি থামানো হয়। এ সময় মেজর খালেকুজ্জামান ও ক্যাপটেন ওলি আহমেদ এক নতুন বার্তা দেন। বার্তাটি তার কানে পেঁৗঁছায়।

উল্লিখিত দু’সামরিক কর্মকর্তা মেজর জিয়াকে জানান ঢাকায় পাক বাহিনীর তৎপরতা চলছে, চলছে বাঙলি হত্যা। সেই মুহুর্তে তিনি জোরেসোরে উচ্চারণ করেন ‘উই রিভোল্ট’ অথ্যাৎ আমরা বিদ্রোহ করলাম। তিনি বন্দরে নৌ বাহিনীর ট্রাকের কাছে পৌঁছালেন। নৌ বাহিনীর লোকেরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল। তার কমান্ডে পাক সেনারা অস্ত্র আত্মসমর্পন করলেন। বাঙালি সেনাবাহিনীর উৎসাহ ও উদ্দিপনা দেখে এ তরুণ মেজর, জেলা প্রশাসক, ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের জানালেন আমরা বিদ্রোহ করেছি। রণাঙ্গনে নেমে পড়ে বাঙালি সেনারা (দৈনিক বাংলা, ২৬ মার্চ ১৯৭২)।




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন