বুধবার । ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৪ই মাঘ, ১৪৩২

দেশপ্রেমিক যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

আবদুল কাদের খান

‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’, কথাটি বলেছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট দেশবিখ্যাত সাংবাদিক নির্মল সেন। অর্থনীতিতে মাস্টার্স, দেশ, দেশের মানুষের জন্য কারাবরণকারী চিরকুমার এক দুঃসাহসী সাংবাদিক।

১৯৭৪ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে একথাটি তাঁর এক লেখায় বলেছিলেন। তখন দুর্ভিক্ষের তোড়ে ক্ষুধার জ¦ালায় মানুষ মানুষের বমি চেটে খাচ্ছিল। তখন নুনের দাম বেড়ে আকাশচুম্বী হয়েছিল ঠিক একইভাবে মুজিবী দুঃশাসনে খুনের দাম খুব সস্তা হয়ে যায়! এই সময় নিয়মিত কলামে এক নিবন্ধে দেশ বিখ্যাত সাংবাদিক নির্মল সেন এমন একটি উক্তি করেছিলেন। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই বলে পুরো দস্তুর একটা কাহিনি লিখেছিলেন।

গত বারই ডিসেম্বর ২০২৫ নির্বাচন কমিশন তফশিল ঘোষণার একদিনের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় আততায়ীর গুলিতে সংজ্ঞাহারা হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এভারকেয়ার এ ভর্তি করা হয়। যখন চিকিৎসকরা তাঁর জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন, তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য। কিন্তু তাকে বাঁচানো গেল না। তাই হাদি সম্পর্কে বলতে গিয়ে এমন ধরনের একটি কথা মনে হলো, আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বড় করে দেখলে যা হয় সেই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে হাদীকে।

ঘাতকের হাতে উচ্চ মূল্য দিয়ে বিদায় নিতে হলো। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সরকারের কোন এজেন্সিই আততায়ীকে খুঁজে বের করতে পারল না। ভারতের আধিপত্যবাদ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে ওসমান হাদির এই অকাল মৃত্যু! ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের মধ্যে হাদি ছিলেন প্রথম সারির বিপ্লবী।

৪০ মিনিটের নোটিশে হাসিনা পালানোর সেই বিপ্লবে তিনি ছিলেন একজন আইকন। আধিপত্যবাদী ভারত তাঁকে ঠিকই নিশানা করেছিল। ভারতের পুতুল হাসিনা এবং ভারতীয় অগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিবাদী বিপ্লবী কণ্ঠ।

ভারতের আগ্রাসন সম্পর্কে বলতে গেলে একটু পেছনের ইতিহাস টানা দরকার। ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর যদিও দৃশ্যমান ভাবে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে, কিন্তু সে বিজয়ের মুহূর্তটা ছিল বড় রহস্যময়। কারণ, বাংলাদেশের দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনের মহানায়ক প্রধান সেনাপতি কর্নেল (অব.) ওসমানী ওই অনুষ্ঠানে অজ্ঞাত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন।

পরে জানা যায়, ভারতীয় বাহিনী তাঁকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তিনি যখন সিলেট থেকে হেলিকপ্টারে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আসছিলেন ভারতীয় বাহিনী তার হেলিকপ্টারে গুলি বর্ষণ করে, কি বিচিত্র ব্যাপার তাই না? আরো কথা আছে, যেমন মুক্তিযুদ্ধের ১১ জন সেক্টর কমান্ডার তাদের কাউকে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি ইচ্ছাকৃতভাবে, এরা সবাই ছিল লাপাত্তা।

নেপথ্যে গুটি ঘুরিয়েছে ভারত। এখান থেকেই শুরু হলো ভারতের আগ্রাসী থাবা বিস্তার। পরাজয় নিশ্চিত জানবার পর সম্মিলিত বাহিনীর যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান এ একে নিয়াজী নয় মাসের যুদ্ধ শেষে পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন ভারতীয় সম্মিলিত বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অরোরার কাছে।

পুরনো ইতিহাস হলেও আজ তা প্রাসঙ্গিক হয়ে কথা বলছে। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিজয় হলেও তার একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলীয় শহর খুলনায় আত্মসমর্পণের কাজ সম্পন্ন হয়। মেজর এম এ জলিল ছিলেন খুলনা যশোর বরিশাল কুষ্টিয়া মিলে ৯ নম্বর সেক্টরের নেতা। কিন্তু রহস্যজনকভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর স্থানীয় কমান্ড আত্মসমর্পণ করে ভারতীয় কমান্ডার দল বীর সিংহের কাছে। ওই অনুষ্ঠান থেকে মেজার জলিলকে ধাক্কা দিয়ে পেছনের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এখানেই শেষ নয়। বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর এদেশের সম্পদ বেপরোয়া লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রতিবাদ করায় ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭১, ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার অসিম সাহসী বীর মেজর এম এ জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয় কোন কারণ ছাড়াই। এখান থেকেই ভারতের আধিপত্য বিস্তার আগ্রাসন শুরু।

সিরিয়াল দিয়ে লিখলে বিরাট একগুচ্ছ নাম আসে। মেজর এম এ জলিল, প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান, সিরাজ শিকদার, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ফেলানি, আবরার ফাহাদ, মুগ্ধ, আবু সাঈদ এবং সর্বশেষ শরিফ ওসমান হাদী প্রত্যেকেই ভারতীয় আধিপত্যবাদ মোকাবেলা করতে গিয়ে তাদের হিংস্র থাবায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দি মেজর এম এ জলিল মিত্রবাহিনীর লুটপাটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে কোনো খেতাব প্রদান করা হয়নি ভারতীয় ইশারায়। বরং মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা বীরত্বের পুরস্কারের বদলে তিরস্কৃত হয়ে যশোর ক্যান্টনমেন্টে বন্দি হয়ে দিন কাটান।

অথচ ১৯৭১ এর ৯ মাস তৎকালীন বিবিসি লন্ডন থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ৯ নম্বর সেক্টর প্রধান মেজর এম এ জলিলের দুঃসাহসির অভিযানের একাধিক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে প্রচার করে। মেজর এম এ জলিল মুক্তিযুদ্ধকালে যে স্থানে কর্মরত ছিলেন সেখান থেকে ছুটি নিয়ে দেশে আসার পর ২৫ মার্চ ১৯৭১ পাক বাহিনীর হামলায় দিশেহারা দেশের মানুষ ফেলে রেখে পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মস্থলে ফিরে যাননি।

মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাগ্যে জুটলো এমনই পরিহাস! দেশের সম্পদ ভারতীয় বাহিনীর লুণ্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে স্বাধীন বাংলাদেশে বন্দী জীবন যাপন করতে হলো। মুক্তিযুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করা সত্ত্বেও তাকে কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি শুধু ভারত বিরোধিতার কারণে।

বলা বাহুল্য, ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি সদ্য শত্রুমুক্ত বাংলাদেশে প্রবেশ করে জহির রায়হান তার ভাই সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি নাকি মিরপুর বিহারী ক্যাম্পে আটকে আছেন। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ভাই প্রখ্যাত সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারের খেঁাজে। আর ফিরে আসেননি।

বাংলাদেশ বিজয় অর্জনের মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ভারতের ইশারায় প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানকে গুম করা হলো। শেখ মুজিব তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু নিখেঁাজ জহির রায়হানের খবর আর পাওয়া গেল না। প্রশ্ন উঠতে পারে, জহির রায়হানের কি অপরাধ ছিল? জহির রায়হানের অপরাধ ছিল মোটা দাগের।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে ফিরে জহির রায়হান যখন দেখতে পান আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা নষ্টামি করছে তখন তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে দুশ্চরিত্র আওয়ামীলীগ নেতারা নয় মাসে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতে বসে ভারতের যৌনপল্লীতে, বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে মদ ও নারী নিয়ে যেসব কেলেঙ্কারি অপযশের কাহিনি ঘটিয়েছিলেন, যেসব ইতরামি কারবার করেছিলেন, তার উপর একটি চলচ্চিত্র তৈরি করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন। তার কাছে এইসব কেলেঙ্কারির ডকুমেন্ট ছিল। এতেই তাকে ভারতীয় বাহিনী অধিকৃত বাংলাদেশে শেখ মুজিবের ইশারায় গুম করা হয়।

জহির রায়হানের সহধর্মিনি সুচন্দা বহুবার শেখ মুজিবের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করেও স্বামীকে ফেরত চান। গুম হওয়া ইলিয়াসের মত সুচন্দাকে শুধু আশ্বাস দেওয়া হয় জহির রায়হান আজও ফিরে আসেনি।

যে কথা বলেছি, দেশ বিজয় অর্জনের পর জহির রায়হান তার অগ্রজ দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক প্রখ্যাত সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার মিরপুরে বিহারিদের হাতে আটক রয়েছেন এ ধরনের একটি প্রলোভনের টোপ ফেলে তাকে গুম করা হয়। জহির রায়হান গিয়েছিলেন ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাক বাহিনীর ছদ্মবেশে তুলে নিয়ে যাওয়া নিখেঁাজ ভাইয়ের খেঁাজে, মিরপুরে। তারপর এই ৫৪ বছরেও আর ফিরে আসেননি।

বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিবের কবোলে পড়ে সিরাজ শিকদার রক্ষী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। তাকে নেয়া হয় বঙ্গভবনে। শেখ সাহেবের সামনে দাঁড়িয়ে সিরাজ শিকদার বলেছিলেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী সে দেশের সাধারণ একজন নাগরিককে বসার কথা কি বলতে পারেন না?” এই অপরাধে সিরাজ শিকদারকে চড় লাথি দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বাইরে নিয়ে ক্রসফায়ার করা হয়। পরে সাভারে নিয়ে মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয়।

হুংকার দিয়ে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিব বলেছিলেন, “কোথায় সিরাজ শিকদার?” সর্বহারা পার্টির এই বিপ্লবী বীর ক্রসফায়ারের শিকার হওয়ায় সুদূর ইংল্যান্ডে চায়ের কাপে তুফান উঠেছিল সিরাজ শিকদারকে নিয়ে। শিকদারের বাবা লাশ গ্রহণ করতে অসম্মতি জানান। সে অনেক কথা।

তারপরে আসি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গে। তিনিও ভারতীয় র’য়ের চক্রান্তে প্রয়াত হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এর ইশারায় নিহত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের এক নম্বর কক্ষে। সিলেট এর আখাউড়া দিয়ে তখন হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কারণ, হাসিনা এসব ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন।

আবরার ফাহাদ সম্পর্কে আমরা জানি। বুয়েটের কৃতি ছাত্র। তাকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় আমাদের বন্দর ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ফেসবুকে, এটাই তার অপরাধ! মুগ্ধ এবং আবু সাঈদ অকাতরে জীবন দিলেন ২০২৪ এর গণ বিপ্লবে অর্থাৎ জুলাই বিপ্লবে। ভারতের ইশারায় একই কর্মকাণ্ড চলে।

সাগর সারোয়ার এবং মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ড একই অঘটনঘটনপটিয়সী শেখ হাসিনার ইশারায় ভারতই এই কাজটি করেছিল। আজও পর্যন্ত তা উদ্ঘটন হয়নি। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়, আজও তার বিচার হয়নি।

ভারতের আগ্রাসী হিন্দুত্ববাদ কতৃর্ত্বপরায়ণ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে শরিফ ওসমান হাদীকে প্রাণ দিতে হলো। বাংলাদেশের প্রশাসন বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেভাবে হাদির ঘাতকদের ব্যাপারে পুরো কুম্ভঘুমে থাকলো তা সত্যিই ন্যাক্কর জনক।

দেশের কোটি কোটি মানুষের একান্ত দাবি হাদির আততায়ীদের খুঁজে বের করা হোক, নইলে জনগণ মনে করবে প্রশাসনের যোগ সাজোশে ঘটনাটি ঘটেছে। হাদির উপর হামলা যে সুপরিকল্পিত এটি এখন প্রকাশ্য দিবালোকের মতো সত্য। ঘাতকের মা বাবা এবং স্ত্রী বান্ধবী শ্যালককে গ্রেপ্তার করলেই হবে না, মূল ঘাতককে অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।

২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পর ১৬ মাস চলে গেল এখনো পর্যন্ত কিলার জিয়াউল আহসান, দরবেশ সালমান এফ রহমান, জুনায়েদ আহমেদ পলক, ব্যারিস্টার সুমন ও হাসানুল হক ইনুকে কেন এখনো কোনো শাস্তির আওতায় আনা গেল না। বরং হাই প্রোফাইলের কুখ্যাত সাবেক মন্ত্রীদের, তস্করদের নির্বিবাদে দেশ ত্যাগে সহযোগিতা করা হলো।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিচারক সবার সামনে থেকে বিশেষ রাজনৈতিক দলের আইনজীবী হাদী হত্যার কুখ্যাত আসামিকে কয়েক মাস আগে জামিন করালো। যার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে সেই আওয়ামী তস্কর কীভাবে জামিন পায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে!

এ কথা বলছিলাম, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উদাসীনতা দেখিয়ে ঢিলে ঢালা ভাবে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তকেই উস্কানি দিচ্ছে। নিরীহ মানুষ তাদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এটা হচ্ছে কীভাবে?

সত্যিই যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন বিচার মন্ত্রণালয় যাদের কবজায় তারা অপারগণ তাহলে পথ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করি। আমরা বারবার বলেছি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। কেন কুকুর বিড়ালের মত দেশপ্রেমিক মানুষেরা প্রতিদিন হামলা হত্যার শিকার হচ্ছে? আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কী কোনো জবাবদিহিতা আছে? কার কাছে জবাবদিহিতা? তারা তো স্পষ্ট কুম্ভঘুমে মগ্ন।

আমাদের স্পষ্ট কথা, গণতন্ত্র মানবাধিকার মত প্রকাশের অধিকার, স্বাধীনভাবে রাজপথে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু আমরা কি প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে এসে প্রতিনিয়ত জীবন হারাবো এ বিষয়ে সরকারের ওইসব দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকদের জবাব দিতে হবে। মেঘে মেঘে অনেক বেলা হল আমরা স্পষ্ট জানতে চাই, ওসমান হাদী হত্যার ফয়সালা অনতিবিলম্বে দিতে হবে।

ঘাতকদের গ্রেপ্তার এবং তার সহযোগী যারা অস্ত্র, তাদের আশ্রয় এসব দিয়েছে তাদেরকে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্বৃত্তরা বারবার আশকারা পেয়ে যাচ্ছে মাঝখান থেকে নিরীহ মানুষ সাবাড় হচ্ছে। এ অবস্থা আর কতদিন চলবে?
যতদূর শোনা যাচ্ছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, নাহিদ ইসলাম, সাদেক কায়েম সহ দেশপ্রেমিক

একগুচ্ছ মানুষকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকেরা হত্যার তালিকায় রেখেছে। ওরা কারা? তাদেরকে কি র‌্যাব, যৌথ বাহিনী, পুলিশ কিংবা সামরিক বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারছে না?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ডক্টর প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনূসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো, প্রতিবাদী মানুষ আস্তে আস্তে ভয় সংস্কৃতি, হত্যা সংস্কৃতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত বৈঠক করে নিরীহদের বেঁচে থাকার জন্য ব্যবস্থা নিন। প্রত্যেক থানা, জেলা, বিভাগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, লুটেরা, দখলবাজ, টেন্ডারবাজদের তালিকা করে গ্রেপ্তার করুন। নিরীহ মানুষের জীবনের গ্যারান্টি চাই। সুশাসনের জন্য সু নাগরিক দরকার। কিন্তু দুর্বৃত্তরা যদি দেশে দুর্বার হয়, তাহলে দেশটি দুর্বৃত্তদের অভয় আশ্রমে পরিণত হবে কথাটি মনে রাখবেন।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

খুলনা গেজেট/এমআর




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন