Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

পেশার নাম সাংবাদিকতা

আবদুল কাদের খান

“কত অজানারে জানাইলে বন্ধু/কত ঘরে দিলে ঠাঁই/দূরকে নিকট করলে বন্ধু/পরকে করলে ভাই।” অজানাকে নিত্য নতুন কৌতূহল নিয়ে জানা বা অনুসন্ধান করার পেশার নাম সাংবাদিকতা। আবার কেউ কেউ বলেন, “It is a profession in hurry.” অর্থাৎ, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার পেশার নাম সাংবাদিকতা।

ভূমিকা না করে বলি- এ এমন এক পেশা যেখানে একটি নিঃসঙ্গ বিহঙ্গ উড়ে উড়ে হয়রান, কিন্তু জমিনে বিশ্রাম বা অবকাশের তার কোন ঠাঁই নেই। সাংবাদিকতা নিঃসন্দেহে একটি মহান পেশা। কারণ, একজন সাংবাদিক সর্বনিয়ত ‘টেনশন এবং ক্রস টেনশন’ মোকাবেলা করে জাতি তথা জনগণের কাছে সঠিক সংবাদটি পৌঁছে দেয়। সাংবাদিকতা পেশায় সবচেয়ে জরুরী যে বিষয়টি তা’ হলো ‘বস্তুনিষ্ঠতা’। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক সবার কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র। তাই বলা হয়, “একজন সৎ সাংবাদিকের কোনো বন্ধু নেই।”

যে কথা বলছিলাম; সংবাদপত্র সংসারে ৫৫ বছর বিচরণ করতে গিয়ে জীবন সায়াহ্নে একটি কথা স্পষ্ট করে বুঝেছি, “হামলা, মামলা, হুমকি, রক্তচক্ষু, জেল-জুলুম এগুলো পরোয়া করে কোনো সাংবাদিকতা চলেনা।” এখানে একটি কথা বলা একান্ত জরুরি মনে করি। আমার ব্যক্তিগত মতে, সংবাদপত্র তিন প্রকার।

যথা :
১.সংবাদপত্র।
২.মানপত্র।
৩.সনদপত্র।

ঠিক একইভাবে সাংবাদিকও তিন প্রকার। যথা:
১.সাংবাদিক।
২.সংবাদিক।
৩.সাংঘাতিক।

মনে হতে পারে বিষ্ময়কর উচ্চারণ! কিন্তু এটাই অপ্রিয় সত্যি কথা, বর্তমান সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে।

একটু বিশ্লেষণ করা দরকার। সংবাদপত্রে সংবাদ সংগ্রহ এবং পরিবেশন করেন যিনি, মুখ্যতঃ তিনি একজন সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক, এ কথায় কোন বাতুলতা নেই। তবে যারা প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ লোকদের খুশি করার জন্য ফরমায়েশি সংবাদ পরিবেশন করেন, তারা হচ্ছেন ‘সংবাদিক’, ফুঁলিয়ে ফাঁপিয়ে রঙিন করে তাদের পত্রিকায় অযোগ্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য করে তোলেন। মানপত্র যেমন বরেণ্য মানুষকে প্রশংসা করতে রচনা করা হয়, এও ঠিক ঐ রকমের। এ ধরনের সংবাদপত্রকে এজন্য বলেছি, ‘সনদপত্র’। আর এর কর্মীরা হচ্ছে ‘সংবাদিক’।

তিন নম্বরে যাকে বলেছি, ‘সনদপত্র’ সাংবাদিকতা। এরা প্রথমে সমাজে বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চোটপাট করে। কখনো বলে, ‘কয়ে দিমু’,’ ‘লিখে দিমু’, ‘দেখে নিমু’ ইত্যাদি ধরনের হুমকিমূলক সাংবাদিকতা। এরাই হচ্ছে, ‘সাংঘাতিক’। এদের নীতি হচ্ছে, উপরি পাওনা, নজরানা, ডান হাত বাঁ হাত কারবার করা হলে, তারা ভীষণ খুশি। তবে প্রাপ্তিতে যদি ঘাটতি হয়, অমনি সে ব্যক্তি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের উপর অখুশি হয়ে দু’কলম লিখে দেওয়া। এরা নগদ নজরানা পেলে সমাজের একজন কঠিন দুর্বৃত্তকেও মুহূর্তে ফেরেশতা বানিয়ে ফেলতে পারে। এদের রচিত সংবাদপত্রের নাম দিয়েছি, ‘সনদপত্র’। অর্থাৎ সমাজে সংসারে কুখ্যাত, অপযশের মানুষেরা নগদ কড়ির বিনিময়ে মুহূর্তে সুখ্যাত, বিখ্যাত,এবং বরেণ্য হয়ে যায়।

সংবাদপত্র দুনিয়ায় যারা সকল হুমকি বাধা রক্ত চক্ষু, নিষেধ উপেক্ষা করে, “যা দেখবো অবিকল তাই লিখবো।”- এই নীতিতে বিশ্বাসী অর্থাৎ, যেকোন মূল্যে সত্য কথাটি, সত্য ঘটনাটি, সত্য বিবরণটি লিখতে যারা পিছ পা হয় না, কিম্বা যাদের বুক কাঁপেনা, তারাই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক। কোন বিরুদ্ধ পরিস্থিতির কাছে ওরা আপোষ করে না। এজন্য বলা হয়েছে, একজন সৎ বা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকের কোন বন্ধু নেই। তবে শত্রুর সংখ্যা অনেক।

এর একমাত্র কারণ কোন প্রকার আপোষ না করে, স্পষ্টভাবে সত্য কথাটি জনগণের কাছে সংবাদপত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা।
সাংবাদিকতার মজার একটি দিক আছে, যা আমরা উপভোগ করি। একজন সাংবাদিক “All session parliamentarian.” [ অল সেশন পার্লামেন্টারিয়ান] জাতীয় সংসদে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় এবং নির্দিষ্ট দিনে পার্লামেন্টের অধিবেশন বসে, তখন একজন সংসদ সদস্য বা সাংসদ তাঁর অঞ্চলের বা এলাকার কথা পার্লামেন্টে তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু তার আগে পরে যেকোনো সময় যেকোনো মুহূর্তে জনগণের সুখ-দুঃখ, সমস্যা দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন একজন সাংবাদিক। শুধু দেখা এবং লেখার সময়টুকু। একজন সাংবাদিক তাই জনগণ সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। যখন পার্লামেন্ট নেই, নির্বাচিত সরকার নেই, প্রশাসন দায়সারা গোছে দায়িত্ব পালন করছে, ঠিক তখনই ফোর্থ স্টেট বা চতুর্থ রাষ্ট্র সংবাদপত্র জনগণের পক্ষে কথা বলে বা জেগে থাকে।

একটি গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রের গুরুত্ব তাই পার্লামেন্টের পরেই। প্রকৃতপক্ষে, পার্লামেন্ট এবং সংবাদপত্র গণতন্ত্রের দু’টি স্তম্ভ স্বরূপ। এই জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্লাংলিন ডিলানো রুজভেল্ট বলেছিলেন, “যদি কখনো সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়, তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষার স্বাধীনতা, বক্তব্য রাখার ও জনসমাবেশের অধিকার প্রভৃতি মৌল অধিকারগুলো অর্থহীন হয়ে পড়বে।” নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এক লাখ সঙ্গীনের চেয়ে তিনটি সংবাদপত্রকে বেশি ভয় করতেন। রুজভেল্ট এর উদ্ধৃতি থেকেই বোঝা যায়, সংবাদপত্র একটি দেশ ও জাতির জীবনে কতটা গুরুত্ব বহন করে।

এখানে একটি ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটি স্পষ্ট করে বলি-
একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের কাজ হচ্ছে সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করা। পার্লামেন্ট বসলে তিনি তার এলাকার জনগণের সুখ-দুঃখ সমস্যা দুর্ভোগের কথা অকপটে তুলে ধরেন এবং তা সমাধানের সম্ভাব্য উপায় সম্পর্কের সুচিন্তিত মতামত দেন। অর্থাৎ তিনি নির্বাচিত এলাকার জনগণের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। আর একটি সংবাদপত্র ওই রাজনীতিকের দায়িত্ব পালন করেও পুরো রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কর্মতৎপরতার যোগসূত্র স্থাপন করে এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় খবরাখবর প্রকাশেরও দায়িত্ব পালন করে। অর্থাৎ সংবাদপত্র হচ্ছে গণতন্ত্রের মূল অবয়ব।

বিশ্বের সংবাদপত্রহীন কোনো দেশ কল্পনা করা যায় না। প্রতিটি নাগরিক তার দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এবং এতদসংক্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয় জানতে চান। কি রাষ্ট্রীয়, কি সামাজিক; সব ধরনের পরিবর্তন সম্পর্কেও সঠিক খবরটি অবগত হতে চান। নাগরিকরা জানতে চান কোথায় কী হচ্ছে বা ঘটছে।

দেশের উন্নয়নের খবর, প্রত্নতাত্ত্বিক, ভুসম্পদ আবিষ্কারের খবর, সমুদ্রে চর জেগে ওঠার খবর! এসব খবর জানার জন্য তারা সবসময় উদগ্রীব থাকেন। আর এসব একমাত্র সংবাদপত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব। তাই সংবাদপত্র আমাদের উদ্দীপ্ত করে, নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। সার্বিক বিচারে, সংবাদপত্র আমাদে দৈনন্দিন জাতীয় জীবনে রাডার হিসেবে কাজ করে। অনেকে বলেন সংবাদপত্র জ্ঞানের গৃহশালা অর্থাৎ ইট ইজ দি স্টোর হাউস অফ নলেজ।

একটি কথা সংবাদপত্র সম্পর্কে প্রায়শ শোনা যায়, কিছু কিছু সংবাদপত্র দল-মত গোষ্ঠীর বাইরে এসে সংবাদ পরিবেশন করতে পারেনা। যখন জনগণের সচেতন অংশ সহজেই বুঝে ফেলে সংবাদপত্র এখানে ‘সাইনবোর্ড’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তখন ওই সংবাদপত্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কাছে দায়িত্ব হারায়। সংবাদপত্রের কাজ শুধু ‘পটানো’ নয়, বরং ‘চটানো’। যেকোন বলদর্পী হোক না কেন সংবাদপত্র যদি বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখে, তাহলে জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয়।

সংবাদপত্রের জন্ম লগ্ন থেকে দেখা গেছে, সকল অসংগতির বিরুদ্ধে, অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে মুহূর্তে রাজরোষে পতিত হয়েছে। ব্রিটিশ, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ আমলে সত্যিকারের জাত সাংবাদিক হামলা মামলা রক্তচক্ষু জেল জুলুম নানা হুমকির সম্মুখীন হয়েও সঠিক সংবাদ পরিবেশন করতে পিছপা হয়নি। বাপের জমিদারি ভূসম্পত্তি বিক্রি করে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে রাজ রোষে নিপতিত হয়ে নিজের হাত দু’খান হারিয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, শতাব্দীর সত্তরের দশকে ময়ুর সিংহাসনের নায়ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ‘ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি’ প্রকাশের পর সিংহাসন থেকে ছিটকে পড়েন।

ডন কগিন এবং বব উড ওয়ার্ড নামক দুই তরুণ সাংবাদিক একাজ করেন অত্যন্ত দুঃসাহসীভাবে বেশ দক্ষতার সাথে।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সাবেক পাকিস্তানের লৌহমানব বলে পরিচিত প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ুব খান ইত্তেফাকের কালজয়ী সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার লেখা কলাম- ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’, লেখক ‘মুসাফির’। নিয়মিত এই একটি কলাম লেখার কারণে ইত্তেফাকের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়, ৯২(ক) ধারায় সম্পাদক মানিক মিয়াকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়।

প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান কারারুদ্ধ ইত্তেফাক সম্পাদকের কাছে (১৯৬৭ /৬৮ সালের কথা) প্রস্তাব পাঠান- ইত্তেফাক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া যদি তাঁর ‘মুসাফির’ ছদ্মনামের ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ কলামটি লেখা বন্ধ করেন তাহলে পূর্ব পাকিস্তানের পদ্মাপাড়ের ছাত্র জনতা কৃষক শ্রমিক, মুটে মজুর আর ক্ষিপ্ত হবে না। বিনিময়ে ইত্তেফাকের নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস এর তালা খুলে দেওয়া হবে, ইত্তেফাক প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে অর্থাৎ ডিক্লিয়ারেশন ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং নজরানা হিসেবে ইত্তেফাক সম্পাদক মানিক মিয়াকে এক কোটি টাকা দেয়া হবে।

প্রস্তাবটি কারাগারে সরকার পক্ষ থেকে পেশ করা হলে সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া প্রচন্ড ঘৃণাভরে সক্রোধে তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, “If Ittefaq is the voice of people, then people will release the paper.” অর্থাৎ, ইত্তেফাক যদি জনগণের মুখপাত্র হয়, তাহলে জনগণ আন্দোলন সংগ্রাম করে, নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস এবং ইত্তেফাক ভবনের তালা খুলে ফেলবে। কী দুঃসাহস স্পর্ধায় সাংবাদিকতা করতেন আমাদের পথিকৃত অগ্রজ সাংবাদিকরা। শুধু উপমা হিসেবে ছোট্ট একটি ঘটনা বিবৃত করলাম। সত্যিই ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে ২০ জানুয়ারি ইত্তেফাক সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে জনগণের আন্দোলনে ছাড়া পায় এবং প্রকাশিত হয়। ইত্তেফাক সম্পাদক মুক্তি পান। একজন সাংবাদিকের কলম যখন দেশ জনগণের দাবি অধিকার সংগ্রামের কথা অকপটে তুলে ধরে, তখন পত্রিকাটি জনগণের আস্থাভাজন মুখপাত্র হিসেবে ‘হট কেক’ এর মত পরিচিতি অর্জন করে। প্রকাশের সাথে সাথে জনগণ লুফে নেয়, জনগণের হাতে হাতে চলে যায়।

সংবাদ পরিবেশন ক্ষেত্রে একজন সাংবাদিককে সব সময় মনে রাখতে হবে,”Newspaper is the reflection mirror of the society, of the country.” সাংবাদিককে মনে রাখতে হবে, , “News should be like a Dagar”. অর্থাৎ সংবাদ হবে ছুরির ফলার মত।

সংবাদ পড়ার পর পাঠক বা জনগণ তার মধ্যে অবিকল ঘটনার হুবহু চিত্র খুঁজে পাবে। আমাদের রঙিন সাংবাদিকতার এই দেশে এখন সত্যি বলতে কি, আপোষকামী গৃহপালিত সাংবাদিকতার জয়-জয়কার সর্বত্র লক্ষ্য করা যায়। সেজন্য প্রত্যেক সম্পাদক পত্রিকা প্রকাশের কিছুকাল পর ডিএফপি নামক যাঁতাকলে পড়ে, যার আরেক নাম বাংলাদেশ ইঞ্চি সমিতি। অধিকাংশ সম্পাদক বাংলাদেশ ইঞ্চি সমিতির অন্ধ ভক্ত হয়ে পড়েন। তখন সংবাদপত্র বস্তুনিষ্ঠতা হারিয়ে তোষামোদ খোশামোদপত্র বা বায়নাপত্র এর রূপ ধারণ করে।

প্রকৃত সংবাদপত্র মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ‘আমার দেশ’। কাজী নজরুল ইসলামের অমর বাণী বুকে ধারণ করে প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিদিন। দেশ জনগণ, আঞ্চলিক অখন্ডতা, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সাচ্চা পাহারাদার হিসেবে। এই সংবাদপত্র কোনদিন দেশের নিপীড়িত মানুষের জানার অধিকারকে খর্ব করেনি। তাই সারাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার শির উঁচু কেও রেখেছে অদ্যাবধি।

ওদের স্পষ্ট ঘোষণা :
সত্যের কাছে নত নাহি শির,
ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ, লড়ে যায় বীর!

সবশেষে দৈনিক খুলনা গেজেট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো, ব্যালেন্স জার্নালিজিম অনেক হলো, এবার ব্যাঘ্র তটভূমি সমুদ্র ধোয়া দক্ষিণের উঠোন খুলনায় আরেকবার নিপীড়িত দুঃখী জনগণের মুখপাত্র হিসেবে দৈনিক খুলনা গেজেট এর প্রকাশনা হোক, সাহসী সাংবাদিকতার দুরন্ত স্পর্ধা —

একসাথে বলি :
“আমরা রয়েছি তোমরা রয়েছো দুর্জয় দুর্বার
পদাঘাতে পদাঘাতেই ভাঙবো মুক্তির শেষ দ্বার।”

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, সাবেক জয়েন্ট এডিটর, দৈনিক প্রবাহ, খুলনা।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন