বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় যখন আস্থার সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি এবং তথাকথিত নিরপেক্ষতার মুখোশে সত্য গলা টিপে ধরা হয়, তখনই কিছু প্রতিষ্ঠান আলোর পথ দেখায়। খুলনা থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘খুলনা গেজেট’ ঠিক তেমন একটি নাম, যেটি বিগত পাঁচ বছর ধরে অপ্রতিরোধ্য এক সাহসিকতার গল্প লিখে চলেছে।
আজ এই সংবাদমাধ্যমটি তার পাঁচ বছরের পথচলার গর্বিত এক মাইলফলকে পৌঁছে প্রিন্ট সংস্করণে যাত্রা শুরু করছে। এটি শুধু একটি সংবাদপত্রের বিকাশ নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার নতুন অধ্যায়। খুলনা গেজেটের যাত্রা শুরু হয়েছিলো একান্ত স্থানীয় কিছু বিষয় তুলে ধরার প্রত্যয়ে। কিন্তু অল্প সময়েই এটি জাতীয় পরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। অনলাইনে তথ্যের জঞ্জালের মধ্যে থেকেও খুলনা গেজেট পাঠকের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। কারণ তারা আপোষহীন থেকেছে সত্য ও সাংবাদিকতার নৈতিকতা রক্ষায়। সংবাদ পরিবেশনে বস্তুনিষ্ঠতা, সাহসিকতা ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার এই চর্চাই তাদের স্বকীয়তা গড়ে তোলে। বিশেষ করে, চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন, মত প্রকাশের সংকোচন ও গণমাধ্যমের উপর চাপের মুখে দাঁড়িয়ে খুলনা গেজেট যেভাবে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন কিংবা সরকারের বিতর্কিত নীতিমালার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এই সাহসিকতা এসেছে তাঁদের দায়িত্ববোধ থেকে।
সাংবাদিকতা শুধু ক্যামেরা ও কলমের খেলা নয়, এটি একটি নৈতিক অবস্থান। আজ যখন অনেক মিডিয়া কর্পোরেট স্বার্থে বা রাজনৈতিক প্রভাবে খবর তৈরি করে, তখন ‘খুলনা গেজেট’ নিজের জায়গায় সত্য ও সাহসের সঙ্গে আপোষ না করে দাঁড়িয়ে থেকেছে। এই কারণেই পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা খুলনার বাইরেও পরিচিতি পেয়েছে একটি বিশ্বাসযোগ্য মিডিয়া হিসেবে। প্রিন্ট ভার্সনে যাত্রা শুরুর এই শুভক্ষণে বলা যায়, খুলনা গেজেট এখন আর শুধু একটি নিউজ পোর্টাল নয়- এটি একটি মিডিয়া আন্দোলনের নাম। প্রিন্ট সংস্করণে যাত্রা তাদের দায়িত্ব আরও বাড়াবে, পাঠকের প্রত্যাশাও ততটাই উচ্চ হবে। তবে গেজেট ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে, তারা সেই দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।
আমার সাংবাদিকতা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে খুলনায়। খুলনা আমার ভালোবাসার শহর। মানবজমিন এর হয়ে যখন খুলনায় সাংবাদিকতা করি তখন এই শহরটির প্রেমে পড়েছিলাম। প্রেম এতোটাই গভীর ছিলো যে সেখান থেকে ঢাকায় বদলি ঠেকাতে অজুহাত তৈরি করেছিলাম।
খুলনা গেজেট এর অন্যতম নীতিনির্ধারক গাজী আলাউদ্দিন আহমদ আমার বন্ধু। তিনি সৎ ও সাহসী মানুষ। এর আগে তার পরিকল্পনায় আরো দু’টি স্থানীয় পত্রিকা বের হয়েছিলো। যদিও মালিক পক্ষের নানা হিসেব-নিকেশের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি ওই পত্রিকা দু’টিতে বেশিদিন কন্টিনিউ করেননি। অনলাইন ভার্সনে খুলনা গেজেট পাঁচ বছর পার করেছে। প্রিন্ট ভার্সনেও তারা ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস। খুলনা গেজেট এর কাছে আমার প্রত্যাশা, তারা ডান-বাম বা সরকার কোন পক্ষের প্রতি দুর্বল না হয়ে খুলনার মানুষের প্রতি দুর্বলতা দেখাবে এবং জবাবদিহিতা করবে। তাহলেই বাজিমাত! তাদের আগামী দিনের যাত্রা হোক আরও শক্তিশালী, আরও প্রভাবশালী- তবে সব সময় সত্যের পক্ষে, জনগণের পক্ষে।
শুভকামনা খুলনা গেজেট। পাঁচ বছরের সাহসী অভিযাত্রা হোক শতবর্ষের আলোয় উদ্ভাসিত।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
খুলনা গেজেট/এএজে