দেশের অগ্রগতির পেছনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সংবাদমাধ্যম শুধু খবরের যোগান দেয় না, বরং এটি সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। সমাজে কোথায় কী ঘটছে, কী করা উচিত, কোথায় সমস্যা হচ্ছে-সবকিছুই সংবাদমাধ্যমে, সাংবাদিকদের কলমের ছোঁয়ায় উঠে আসে। একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরি এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
বিশেষ করে বর্তমান ডিজিটাল যুগে যখন তথ্যের প্রবাহ অবারিত, চারিদিকে গুজব, মব, তখন বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে, খুলনার মতো একটি বিভাগীয় শহরের জন্য একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম।
‘খুলনা গেজেট’ গত পাঁচ বছর ধরে অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে খুলনার গণমাধ্যম জগতে একটি শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। যাত্রা শুরুর পর থেকেই তারা শুধু অনলাইন মিডিয়া হয়ে থাকেনি, বরং খুলনা এবং এর আশেপাশের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। বিশেষত ডিজিটাল মাধ্যমে তারা যে ব্যতিক্রমী সাংবাদিকতার উদাহরণ স্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
তারা খুলনার নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যা যেমন জলাবদ্ধতা, যানজট, নদী দখল, এবং পরিবেশ দূষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সাহসের সাথে তুলে ধরেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের অনিয়ম এবং দুর্নীতি নিয়ে তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো প্রায়শই আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সমাধানের পথ খুলে দিয়েছে। এই পাঁচ বছরে খুলনা গেজেট নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। এটি তাদের কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং সাংবাদিকতার প্রতি অগাধ ভালোবাসারই প্রতিফলন।
‘খুলনা গেজেট’ অনলাইন মিডিয়ার পাশাপাশি প্রিন্ট মিডিয়ায় পদার্পণ করতে যাচ্ছে। তাদের এই সাহসী পদক্ষেপকে আমি আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এটি কেবল একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নয়, বরং খুলনার গণমাধ্যম জগতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রিন্ট মিডিয়ায় তাদের আগমন খুলনার সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি নতুন সংযোগ তৈরি করবে।
আমি প্রত্যাশা করি, প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশের পরেও ‘খুলনা গেজেট’ তাদের বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ধারা বজায় রাখবে। তারা যেন আরও গভীর এবং বিস্তৃত পরিসরে সমাজের নানা সমস্যা তুলে ধরে। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান, গবেষণার সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চশিক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে তাদের প্রতিবেদনগুলো যেন আরও ফলপ্রসূ হয়। খুলনা অঞ্চলের শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং ঐতিহ্য নিয়েও তাদের আরও বেশি প্রতিবেদন প্রকাশের প্রত্যাশা রাখি।
প্রিন্ট মিডিয়া হিসেবে তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে, কিন্তু তাদের পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা এবং দৃঢ়তা তাদের সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করবে। আমি বিশ্বাস করি, ‘খুলনা গেজেট’ অনলাইন এবং প্রিন্ট উভয় মাধ্যমেই সমানভাবে সাফল্য লাভ করবে এবং খুলনার উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। তাদের এই নতুন যাত্রার জন্য আমার পক্ষ থেকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রইল শুভকামনা।
লেখক : উপ-উপাচার্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
খুলনা গেজেট/এএজে