Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

খুলনার মানুষের চরিত্র, ভাগ্য ও বৈপরীত্য

এ এম কামরুল ইসলাম

খুলনা জেলা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের অন্তর্গত। ১৮৪২ সালে যশোর জেলার অধীনে খুলনা মহকুমা সৃষ্টি হয়। এটিই অবিভক্ত বাংলার প্রথম মহকুমা। পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় উন্নীত হয়। এ জেলা ২২ ডিগ্রি ১২’ থেকে ২৩ ডিগ্রি ৫৯’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯ ডিগ্রি ১৪’ থেকে ৮৯ ডিগ্রি ৪৫’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। খুলনার উত্তরে যশোর ও নড়াইল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বাগেরহাট এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরা অবস্থিত। জেলার মোট আয়তন ৪৩৯৪.৪৫ বর্গকিলোমিটার।

রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা নামে ৯টি উপজেলা নিয়ে খুলনা জেলা গঠিত। এ জেলায় ০১টি সিটি কর্পোরেশন, ২টি পৌরসভা ও ৬৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। রূপসা নদীর তীরে শিল্প নগরী খুলনা গড়ে উঠেছে। বিভাগীয় সদর দপ্তর ও জেলা সদর দপ্তর এ শহরেই অবস্থিত।

পালকির গান, ওঝার গান, বাওয়ালীদের গান, গাছ কাটার গান, গাড়োয়ানের গান, জেলেদের গান, কবিরাজের গান, ঘোল তৈরীর গান, চুন তৈরীর গান, কুমারের গান, হাবু গান, ধান কাটার গান, ধুয়া গান ইত্যাদি এ জেলার পেশাভিত্তিক লোকজ সংস্কৃতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তালের পাখা, শোলার খেলনা, বাঁশ ও বেতের পাত্র, মাটির পাত্র, পুতুল ও খেলনা, মাদুর, কাঠের খেলনা ইত্যাদি তৈরি কাজে নিয়োজিত পেশার মানুষের দ্বারা গড়ে ওঠা লোকজ সংস্কৃতি।

জেলার ভাষা, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও রাজনীতিতে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা আহম্মেদ আলী, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন রসায়ন বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, কবি কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’ এর সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও রাজনীতিবিদ কমরেড রতন সেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব কামাক্ষা প্রসাদ রায় চৌধুরী, ভারতের পশ্চিম-বঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেন প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

দেশ ভাগের সময় খুলনা জেলাসহ এই এলাকার একটি বৃহৎ অংশ পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে যুক্ত করার জন্য তৎকালীন নেতা খান এ সবুর সাহেবের একক অবদান বলে অনেকে মনে করেন। পরবর্তীতে তাঁর হাত ধরে খুলনা বিভাগ ও শিল্পনগরী খুলনার উন্নয়ন শুরু হয়।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, খুলনা জেলার গণনাকৃত মোট জনসংখ্যা ২৬,১৩,৩৮৫ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১৩,১২,১৬৬ জন, নারী ১৩,০১,০৩২ জন ও হিজড়া ১৮৭ জন। এ জেলায় পল্লি ও শহর এলাকায় বসবাসকারী জনসংখ্যার হার যথাক্রমে ৫৯.১৭% ও ৪০.৮৩%। বস্তিতে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যা ৬৬,৩৭৬ জন এবং মোট ভাসমান জনসংখ্যা ৩০৯ জন।

উপজেলাভিত্তিক উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলায় সর্বাধিক সংখ্যক জনসংখ্যা বাস করে ৩,৪৩,৮৮৫ জন। পক্ষান্তরে তেরখাদা উপজেলায় সবচেয়ে কম সংখ্যক জনসংখ্যা বাস করে ১,২৮,৯২২ জন। খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার জনসংখ্যা ৭,১৯,৪৬৫ জন। সাধারণ খানা, প্রাতিষ্ঠানিক খানা ও অন্যান্য খানায় বসবাসকারী জনসংখ্যার হার যথাক্রমে ৯৭.০৩%, ১.৩৫% ও ১.৬২%। জেলার সাধারণ খানার ক্ষেত্রে পুরুষ প্রধান খানা ৮৬.৮৫% ও নারী প্রধান খানা ১৩.১৫%। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী জেলার গড় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.০৬% যা ২০১১ সালে ছিল -০.২৫% শতাংশ। পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ০.৯৮% ও ১.১৫% শতাংশ। জেলার মোট জনসংখ্যার মধ্যে ২০-২৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার হার সবচেয়ে বেশি ৯.৪০%। পুরুষের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার হার সবচেয়ে বেশি (৯.০৭%) ১৫-১৯ বছর বয়স-গ্রুপে এবং নারীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ২০-২৪ বছর বয়স-গ্রুপে (১০.০০%)।

অন্যদিকে ক্রমপুঞ্জিত শতকরা হার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী জনসংখ্যা রয়েছে ২৪.৩৪%, ৩০ বছরের কম বয়সী রয়েছে ৫১.৬১% এবং ৬০ বছরের কম বয়সী রয়েছে ৮৯.৫৬%। জেলায় লিঙ্গানুপাত ১০০.৮৬, নির্ভরশীলতার অনুপাত ৪৫.০৯ এবং শিশু- নারী অনুপাত অনুপাত ২৮৬.৪৭। ১০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৬৬.৬৭% বর্তমানে বিবাহিত এবং ২৬.৩১% অবিবাহিত। পুরুষ ও নারীর বিবাহের গড় বয়স যথাক্রমে ২৫.৭০ এবং ১৯.২৮ বছর। ধর্মভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলায় বসবাসরত মোট জনসংখ্যার ৭৮.৬৭% মুসলিম, ২০.৭৬% হিন্দু, ০.৫৪% খ্রিস্টান, ০.০১% বৌদ্ধ ও ০.০২৫% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ৪৮,১৪৫ যা জেলার মোট জনসংখ্যার ১.৮৪ শতাংশ।

খুলনার স্থানীয় মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করলে কিছু সাধারণ ও পরিচিত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যেগুলো সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গড়ে উঠেছে। খুলনার মানুষ বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহুরে জনপদের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে কিছু ভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকলেও নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো মোটামুটি সর্বজনীনভাবে লক্ষ্য করা যায় :

১. সহজ-সরল ও আন্তরিকতা
খুলনার মানুষ সাধারণত সহজ-সরল ও আন্তরিক। তারা অতিথিপরায়ণ এবং পরিচিত কিংবা অচেনা সবাইকে আপন করে নিতে জানে।

২. মৃদু অলস ও ঘরকুনো
খুলনার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজ, মৎস্যচাষ, সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জীবিকা ইত্যাদির সাথে জড়িত, মোটামুটি জমিজমা থাকায় কম পরিশ্রম করতে অভ্যস্ত ও বাস্তবতাবাদী।

৩. ধৈর্যশীল ও সহনশীল
প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস) প্রায় নিয়মিত সঙ্গী হওয়ায় তারা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে শিখেছে। বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা তার প্রমাণ।

৪. প্রকৃতিপ্রেমী
সুন্দরবনের সান্নিধ্য এবং নদী-খাল-বিলের পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা মানুষদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা কাজ করে। খুলনার মানুষ তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

৫. সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী
খুলনার মানুষ সাধারণত পরিবারকেন্দ্রিক এবং সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ তাদের মাঝে সহজে দেখা যায়।

৬. সাহসী ও আত্মমর্যাদাশীল
বিশেষ করে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে বাঘ, সাপ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য সাহসী মনোভাব গড়ে উঠেছে।

৭. ঐতিহ্যবাহী ও সংস্কৃতিমনা
তারা স্থানীয় লোকসংস্কৃতি, পিঠাপুলি, পালাগান, মেলা ইত্যাদির প্রতি অনুরাগী এবং নিজের ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধ করে।

৮. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, নাটক, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক জগতে খুলনার মানুষের অবদান সকলে একবাক্যে স্বীকার করে।

৯. ধর্মীয় সহনশীলতা
খুলনা অঞ্চলে মুসলিম, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা সাধারণত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। এখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান বেশ ভালোভাবে বিদ্যমান।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত লোকজন বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িঘর তৈরি করে বহিরাগত লোকজন এখানকার নাগরিক হিসেবে বসবাস করলেও তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। একটু খেয়াল করলে শহরের বহিরাগত লোকজনের সাথে খুলনার স্থানীয় মানুষের চরিত্রের পার্থক্য সহজেই অনুমান করা যায়। আগেই বলেছি- খুলনার মানুষ সহজ সরল। তাই বহিরাগত মানুষ তাদের সরলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই স্বার্থ হাসিল করে। এমনকি সুযোগ বুঝে তাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খায়।

খুলনার মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াতে অনভ্যস্ত। এমনকি সকল ধরনের নেতা আমলারাও কেউ কারো পাশে দাঁড়াতে অনিচ্ছুক। আরো খুলে বললে বলতে হয়- এই এলাকার মানুষ কেউ কারো অনুকম্পা দিতেও জানে না, নিতেও জানে না। একজন নেতা পেরেছিলেন, তিনি মরহুম খান এ সবুর। আর একজন স্বনামখ্যাত আমলা কাজী আজহার আলী সাহেবের নাম না নিলে অপরাধ হবে।

খুলনা শহরে স্থানীয় কোন নেতা বা পরিবার মাথা চাড়া দিতে গেলেই সুকৌশলে তার নামের সাথে একটা ‘গুন্ডো’ উপাধি জুড়ে দেওয়া হয় এবং শেষ পরিণতি হয় জীবন বিসর্জন দিয়ে। কিন্তু বহিরাগত কোন মানুষ একটু বুদ্ধি খাটালেই নেতা হয়ে খুলনার নাম বিক্রি করে নিজের ফায়দা লোটেন এবং নিজের এলাকার লোকজন প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি গুন্ডা হলেও তার নামের সাথে একদিন ‘সাহেব’ খেতাব জুড়ে যায়।

খুলনার উন্নয়ন না হওয়ার মূল কারণ হলো, স্থানীয় কোন মানুষ কোন সরকারের আমলে খান এ সবুর সাহেবের মতো খুলনাপ্রেমী ক্ষমতাধর নেতা না হতে পারা এবং কাজী আজহার আলী সাহেবের মতো আমলার দ্বিতীয়টা জন্ম না হওয়া।

দু’একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি আরো পরিস্কার হবে-

১. আমি ১৯৯২ সালে খালিশপুর থানার ওসি ছিলাম। সেখানে প্রায়ই বরিশাল গ্রুপ, নোয়াখালী গ্রুপ, চিটাগং গ্রুপ, ফরিদপুর-গোপালগঞ্জ গ্রুপের মধ্যে মারামারি লাগতো। তাদের সবার ঐক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। নিজ নিজ জেলার নামে সমিতি, ক্লাব, মিছিল, মিটিং, খাওয়া দাওয়া প্রায়ই দেখতাম। হঠাৎ খুলনার স্থানীয় লোকজন মিলে ‘সুন্দরবন সমিতি’ নামে একটা ক্লাব বানিয়ে অফিস উদ্বোধন করলে নিজেদের মধ্যে হাজার ঝগড়াঝাটি থাকা সত্ত্বেও সকল জেলার লোকজন এক হয়ে সুন্দরবন ক্লাব ভেঙে দিলো। আমি খুলনার মানুষ ওসি থাকা সত্ত্বেও ঠেকাতে পারলাম না। কিন্তু খুলনার পক্ষ নিতে গিয়ে খালিশপুরের তৎকালীন হুইপ জনাব আশরাফ হোসেনের রোষানলে পড়ে আমাকে পাহাড়ি জেলায় বদলি হতে হয়েছিল। কিন্তু আমি আল্লাহর রহমতে সেটা বাতিল করিয়ে উল্টো জাতিসংঘ মিশনে চান্স পেয়ে সেখানে গিয়ে ভাগ্য সুপ্রসন্ন করার সুযোগ পেয়েছিলাম।

২. খুলনার মানুষের চরিত্রের আর একটি দুর্বল দিক তুলে ধরতে অন্য একটি উদাহরণ দেই। এক সময় খুলনা ও সিলেট ছিল পুলিশের খাতায় চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকা। তাই পুলিশের নীতি নির্ধারনী সভায় খুলনা রেঞ্জের সকল পুলিশ সদস্যদের (যাদের নিজ বাড়ি খুলনায়) খুলনার বাইরে ও সিলেটের সকল পুলিশ সদস্যদের (যাদের নিজ বাড়ি সিলেটে) সিলেট বিভাগের বাইরে গণবদলির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে সিলেট বিভাগের সকলের গণবদলির আদেশ বাতিল হয়। বহাল রয়ে যায় শুধু খুলনার গণবদলি। হতাশ হয়ে ভুক্তভোগী কিছু পুলিশের সদস্য আমাদের এলাকার বিভিন্ন নেতার শরণাপন্ন হয়ে বার বার তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অপমানিত হয়। শেষমেশ তারা আমার মতো অধমের কাছে গেলে আমি সুযোগ বুঝে পুলিশের নীতিনির্ধারণী মহলে বিষয়টি বলতে গিয়ে শুনলাম – সিলেটের মন্ত্রী জনাব সাইফুর রহমান সাহেব আইজিপি মহোদয়কে বলেছেন- “আইজি সাহেব, আফনে আমার এলাখার পুলিশদের বদলি করার কে? আফনে আমার চাইতে আমার এলাকার লোকজনকে বেশী চেনেন। বাতিল খরেন ঐসব।”

এই কথা পুলিশ সদরদপ্তরে অনেকেই জানতেন। আমিও তখন সেই সুযোগ নিয়ে খুলনা এলাকার গণবদলি বাতিলের পক্ষ নিলাম। মোটামুটি সাত আট মাস পর খুলনার পুলিশের গণবদলি রহিত হলো। অবশ্য খুলনার কিছু পুলিশ ইতোমধ্যে বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছিল।

এই দুটো ঘটনা শুধুমাত্র খুলনার মানুষের চরিত্রের দুর্বল দিক তুলে ধরতে উপস্থাপন করলাম।

আমার চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি -তে প্রায় সাড়ে তিন বছর চাকরি করতে গিয়ে অগাধ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তা বিস্তারিত লিখবো হয়তো কখনো। তবে এখানে শুধু এটুকু উল্লেখ করতে চাই – খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গন. ব্যবসা-বাণিজ্য, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের নেত্রীস্থানীয় পদে খুলনার কোন মানুষের নেত্রীত্ব নাই। অতএব অদূর ভবিষ্যতে খুলনার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না।

তবুও এক বুক আশা নিয়ে বেঁচে আছি। দুর্গম সুড়ঙ্গ ভেদ করে আঁধারের পথ বেয়ে একদিন আলো আসবে ইনশাআল্লাহ।

লেখক : সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন