গত ৩০ মার্চ খুলনা জেলা পরিষদের সামনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার। তার এই মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শোকের ছাঁয়া নেমে আসলেও, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
মৌমিতার মৃত্যুর পর কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাড়ি সনাক্তকরণসহ দোষীদের শাস্তির দাবিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল, কিন্তু কোনো পরিবর্তন বা ঘোষণা আসেনি।
শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রশাসনের এই উদাসীনতা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি হিসেবে “জাস্টিস ফর মৌমিতা” ঘোষণা করেছে।
এছাড়াও প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আজ ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
১.ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন: বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা আজ কোনো ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।
2.হাদি চত্বরে জমায়েত: সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে সকল শিক্ষার্থীকে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৩.ডিসি অফিস ঘেরাও: হাদি চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা এবং ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
এর আগে শিক্ষার্থীরা মৌমিতা হালদারের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। তারা দাবি করেছে-
মৌমিতা হালদারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা ও শাস্তি নিশ্চিত করা,
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেসহ খুলনার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতিরোধক ও ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা,
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
আজকের বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ন্যূনতম কোন পদক্ষেপ ঘোষণা করেনি যার জন্য তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়ার পরেও প্রশাসন দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ এবং নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা পাচ্ছি, আমাদের এই ‘জাস্টিস ফর মৌমিতা’ আন্দোলন চলবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

