বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত

গেজেট প্রতিবেদন

ব্যাংকবহির্ভূত পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (৯ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এসব প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার আমানতকারীর প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে আছে। প্রশাসক নিয়োগের পর প্রত্যেক আমানতকারী প্রথম ধাপে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।

এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের চিত্র উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ। আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। এখন আমাদের প্রথম কাজ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা। এরপর এসব প্রতিষ্ঠানে একীভূত ব্যাংকগুলোর মতো প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। প্রশাসক নিয়োগের পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি আমানতকারী ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমান। সভায় দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা হয়।

বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচটির বাইরে বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিন মাস সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে, তাদের এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা দেখাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করতে না পারলে সেগুলোকেও অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

২০২৪ সালের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে কেন বন্ধ করা হবে না, এই মর্মে নোটিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক ছিল না। সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে তালিকা থেকে বাদ যায় জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি। তখন ছয়টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল। সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিজিংকেও বাদ দেওয়া হয়। চূড়ান্তভাবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন