অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার : গ্রেপ্তার প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

গেজেট প্রতিবেদন

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন এলাকা থেকে অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (১৬ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আব্দুল ওয়াদুত মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসএম) কামাল হোসেন বলেন, আসামির পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন এবং আগামী ১৮ আগস্ট শুনানির করবেন বলে আদালতকে অবহিত করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনের উল্লেখ করেন, আসমি হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিক যন্ত্রণা দিতেন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন। নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে গত ১৫ আগস্ট ভোর ৫টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

​পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হাসিবুর রহমান অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। ১৫ আগস্ট রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভাটারা এলাকার একটি বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মডেল লিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই বাসায় ভাড়া থেকে মিডিয়ায় কাজ করতেন। লিনার সঙ্গে হাসিবুর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের। ​ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৪ আগস্ট রাতে লিনা তার বাসায় বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে ছিলেন। রাত ১১টার দিকে লিনা এবং হাসিবুরের মধ্যে মোবাইল ফোনে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে লিনা তার বান্ধবীদের ড্রয়িং রুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন। পরবর্তী সময়ে ভোর অনুমান ৫টা ৩০ মিনিটে আসামি হাসিবুর লিনার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে হাসিবুর জানান, লিনা তার ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে সবাই ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। ​দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় তার মা মনি বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভাটারা থানায় মামলা করেন।

জানা গেছে, মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধি। এর মধ্যে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’ উল্লেখযোগ্য।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন