প্রমাণ ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, একজন আসামি যত শক্তিশালী বা যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, তা বিবেচনায় নিচ্ছেন না ট্রাইব্যুনাল। দৃশ্যমান অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার চলছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নবীন সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিমিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এরই মধ্যে চারটি মামলার রায় হয়েছে। এতে আলোচিত মানুষরাও সাজা পেয়েছেন। অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে এসবের বিচার করা হয়েছে। বিশেষ করে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ জনের অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি হয়েছে। ঢালাওভাবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দেওয়া হয়নি। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ৪০৫টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। কয়েকটি মামলার নিষ্পত্তি খুব শিগগিরই হয়ে যাবে। এছাড়া সারা বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গুম-খুনের ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে একজন আসামি যত শক্তিশালীই হোক না কেন কিংবা তিনি কোন রাজনৈতিক দলের, তা আমরা দেখছি না। কেননা ট্রাইব্যুনালে যারা বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত অভিযোগ ও দৃশ্যমান প্রমাণ রয়েছে। নিরপরাধ কোনো মানুষকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি।
সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সারাদেশের প্রত্যেক এসপিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। একজন সাক্ষীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে যা করার, সবটাই আমরা করছি। অতএব তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
খুলনা গেজেট/এএজে

