সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের প্রবাসী বাচ্চু মিয়া (৩৮) নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৮ মার্চ) ইফতারের আগ-মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির শ্রমিক ক্যাম্পে হামলা করা হয়।
নিহত বাচ্চু মিয়া (৩৮) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ফেকামারা গ্রামের রইস উদ্দিনের ছেলে।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘‘সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাচ্চু মিয়ার নিহত হওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’’
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, নিহতের মা ফাতেমা আক্তার বাড়ির উঠানে ছেলের শোকে আহাজারি করছেন। শোকে নীরব হয়ে মাটিতে বসে আছে বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী ও সন্তানেরা। আশপাশের এলাকার মানুষজন তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
ফাতেমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘‘আমার ছেলের সম্পূর্ণ লাশ না হোক, অন্তত তার শরীরের দুটা হাড্ডি হলেও আমাকে যেন সরকার এনে দেয়। আমরা খুব গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি। এখন ছেলের বউ এবং নাতিদের নিয়ে আমি কী করব, কী খাব। সরকার যেন আমাদের খোঁজ-খবর নেয়।’’
বাচ্চু মিয়ার শাশুড়ি রেজিয়া আক্তার কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘‘আমার বাবারে ঋণ করে বিদেশ পাঠাইছি। তার দেশে বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকার জন্য একটা ঘরও করে দিছি। ওইখানে যে চাকরি করতে, সেটাও খুব ভালো বেতনের না। অহন এই সন্তানদের নিয়া কেমনে চলবে, কী খাইব; আমি কিছুই বুঝতাছি না।’’ কথা শেষ করে আবারো কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘‘বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর হাতে ১৫ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক দিয়ে এসেছি। ওই পরিবারের প্রয়োজনীয় সকল সরকারি অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’
লাশ দেশে আনার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলমান রয়েছে বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

