শনিবার । ৭ই মার্চ, ২০২৬ । ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২

আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাসের সাথে মৌমাছির গুনগুন ধ্বনি মাতাচ্ছে গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

শুষ্কতা পেরিয়ে প্রকৃতিতে নেমেছে বসন্তের স্নিগ্ধ পরশ। ঋতুর এই পালাবদলে গাছে গাছে ফুটে উঠেছে আমের মুকুলের সুবাসিত বার্তা। আর সেই হলুদে-সবুজে মুকুলে অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে পঞ্চান্ন একরের গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস।

শীতের প্রকোপ কমতেই ক্যাম্পাসের আমগাছগুলো থোকা থোকা মুকুলে ছেয়ে গেছে। চিকন ডালপালা মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে। সোনালি রোদের আভা আর মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা সেই মুকুল যেন চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে বসন্তের আগমনি বার্তা। ক্যাম্পাসের বাতাসে ভাসছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস, মৌমাছির গুনগুন ধ্বনি আর পাখির কলতানে মুখর চারপাশ। প্রাণবন্ত এই প্রাকৃতিক আবহ শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মনে ছড়িয়ে দিচ্ছে নির্মল বসন্তের স্নিগ্ধ ছোঁয়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনের প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে শহীদ মিনার, হল চত্বর, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ডরমিটরি ও অ্যাকাডেমিক ভবনের চারপাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহের আঙিনা সবখানেই আমগাছগুলো মুকুলের সজীবতায় ভরে উঠেছে। গাছের নিচে ঝরে পড়া মুকুলে যেন বিছিয়ে গেছে হলুদাভ এক নরম কার্পেট। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা আমগাছঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ধরে হাঁটাহাঁটি করে উপভোগ করছেন বসন্তের এই মোহনীয় সৌন্দর্য।

দিনভর মুকুলে ভরা ডালগুলোতে মৌমাছির ব্যস্ত উড়াউড়ি দেখা যায়। হালকা বাতাসে ভেসে আসা মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ অনেক শিক্ষার্থীকে এক মুহূর্তের জন্য থেমে যেতে বাধ্য করে। ডালে বসা ছোট ছোট পাখির কিচিরমিচিরে বসন্তের আবেশ আরও বেড়ে যায়। ব্যস্ত পড়াশোনার মাঝেও এই দৃশ্য এনে দেয় একটু স্বস্তি ও প্রশান্তি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লাবিবা তাসফিয়া বলেন, “শীতের ধূসরতা পেরিয়ে বসন্ত আসে রং আর সুবাস নিয়ে। হলদে-সবুজ আমের মুকুলের আগমনি বার্তায় বদলে যায় চারপাশের আবহ, প্রকৃতি জেগে ওঠে নতুন প্রাণে। এই পরিবর্তন যেন আমাদের শেখায় অন্ধকারের পরেই শুরু হয় সম্ভাবনার ঋতু। বসন্তের এই নবজাগরণ তাই মনে জাগায় আশা, সাহস ও নতুন করে পথচলার প্রেরণা।”

এদিকে ক্যাম্পাস জুড়ে আমের মুকুলের অধিক উপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাহমিনা বেগম বলেন, “এ বছর শুধু এই ক্যাম্পাসেই নয়, দেশের অন্যান্য জায়গাতেও আমের মুকুল তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে প্রধান কারণ অনুকূল পরিবেশ।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন