জুলাই হত্যা মামলায় সিলেটে কোন ম্যাজিস্ট্রেট গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন তথ্য দিতে অসহযোগিতা সিলেটের ডিসির।
সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে মামলা করার অনুমতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
জুলাই আন্দোলনে সিলেটে কয়েকজন নিহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের স্ত্রী এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন, যা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিসির কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিলো যে ঐ সময় কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুলির নির্দেশ দিয়েছিল সেটা জানাতে।
এ ছাড়াও বিজিবির কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিলো যে সে সময় ঘটনাস্থলে কারা দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কিন্তু তারা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কোনো তথ্য দেয়নি সহায়তাও করেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেন যাতে তথ্য দেয়ার জন্য ডিসি এবং বিজিবিকে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে আদালত ডিসি এবং বিজিবিকে তথ্য দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বিজিবি তথ্য দিয়েছে, কিন্তু সিলেটের ডিসি কোনো তথ্য দেননি যে ঐ সময়ে ঘটনাস্থলে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং কে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ডিসিকে কয়েকবার সময় দেয়া হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত ডিসি কোনো তথ্য দেননি।
পরে আদালত ডিসিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অমান্য করার জন্য কেনো তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে। তারিখ ধার্য করা হয় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু সেই তারিখেও ডিসি কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
পরে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য গত ১ মার্চ তারিখ ধার্য করেন। কিন্তু এর মধ্যেও ডিসি কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি কিংবা তথ্য প্রদানের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
ফলে আদালত ডিসির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ প্রদান করেন। যেহেতু ডিসি একজন সরকারি কর্মচারী সেহেতু তার বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে আগে সরকার তথা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে, তাই আদালত সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন মামলার অনুমতি গ্রহণ করে ধার্য তারিখে আদালতকে জানানোর জন্য। পরবর্তী ধার্য তারিখ ১৫ এপ্রিল।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

