চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে এক প্রবাসীর পুরুষ শূন্য বাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই বাড়ি থেকে পারুল বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ সময় তার পুত্রবধূ হালিমা আক্তারকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার মধ্যে যেকোনো সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত পারুল বেগম (৭০) মৃত লনু প্রধানের স্ত্রী। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হালিমা আক্তার নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
প্রতিবেশী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নিতে তিনি ওই বাড়িতে যান। বাইরে শিশু মাহাদি হাসান ও মারিয়াকে খেলতে দেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের খোঁজ করলে শিশুরা জানায়- ‘দাদু আর মা মারা গেছে।’ বিষয়টি শুনে তিনি ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, পারুল বেগম উপুড় হয়ে মেঝেতে পড়ে আছেন। পাশের কক্ষে গিয়ে দেখতে পান হালিমা আক্তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে।
আহত হালিমা আক্তার জানান, এশার নামাজের কিছুক্ষণ পর মুখ বাঁধা অবস্থায় ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে তাকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ঘরের মালামাল লুটে নেয়। এরপর পাশের কক্ষে গিয়ে তার শাশুড়ি পারুল বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মতলব উত্তর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন বলেন, দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে এলাকায় নিরাপত্তা ফিরে আসে।
খবর পেয়ে চাঁদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার জাবির হুসনাইন সানীব বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

