মঙ্গলবার । ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশ-ভারত সরাসরি বাস পরিষেবা নিয়ে তথ্য প্রকাশ

গেজেট প্রতিবেদন

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ বিরতির পর আবার চালু হয়েছে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা। ত্রিপুরা সরকারের অধীন ত্রিপুরা রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (টিআরটিসি) পরিচালিত ‘রয়্যাল মৈত্রী’ বাসটি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় আগরতলার আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর অতিক্রম করে ত্রিপুরায় পৌঁছায়।

বাসটি সেখানে পৌঁছালে ত্রিপুরার পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এবং টিআরটিসির চেয়ারম্যান সমর রায় যাত্রীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী পরিষেবাটি পুনরায় চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশ ভারতের কাছে পরিবারের সদস্যের মতো। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পর্যটন ও সামগ্রিক সম্পর্কের উন্নয়নে বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

কলকাতা থেকে আগত যাত্রীরা জানান, পরিষেবাটি পুনরায় চালু হওয়ায় যাতায়াতে বড় সুবিধা হয়েছে। পথে কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখী না হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

গত শনিবার পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল শুরু হয়। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। এর আগে আগরতলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত বাস চলাচল নিয়মিত ছিল। তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার।

ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক বাস অপারেটর সংস্থার ব্যবস্থাপক মনোরঞ্জন দেবনাথ জানান, ভিসা জটিলতাসহ কিছু অনিবার্য কারণে বাস পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আবার চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নতুন করে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয়নি, কারণ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে। ২০০১ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতাতেই পরিষেবাটি পুনরায় চালু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে। এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বাকি সমস্যাগুলোরও দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতার দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৫৭০ কিলোমিটার। এই পথ আসতে সময় লাগে প্রায় ৪০ ঘণ্টা। তবে ঢাকা হয়ে আগরতলা থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৫০০ কিলোমিটার। বাসে ভাড়া পড়বে ২৮০০ টাকা বলেও জানানো হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন