সোমবার । ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩২

৫ আগস্টের পরের মামলা যাচাই-বাছাই করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গেজেট প্রতিবেদন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু মামলায় অনেক সুবিধাবাদী গ্রুপ ভোগান্তিতে ফেলতে নিরীহ ও সাধারণ অনেক মানুষকে মামলায় জড়িয়েছে। পুলিশ বিভাগকে এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘‘বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুনরায় কমিশন গঠন করে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে সেই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিচার করা হবে। এটা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও আছে। আমরা যে কোনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে দেশে লটারি করে এসপি এবং ওসিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে করে যার যেখানে যাওয়ার কথা না সেখানে দেওয়া হয়েছে। এসব পদায়ন সার্ভিস রেকর্ড দেখে করা উচিত ছিল। তাছাড়া লটারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। আমরা দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনায় নিয়ে এগুলো নিয়ে কাজ করব।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘রাজনৈতিক কারণে বিধির বাহিরে পুলিশ সুপাররা যেন কাউকে প্রটোকল না দেয় সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে- জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনা করা।’’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যে সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেগুলো আমরা আবার ভেরিফাই করব। সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কিনা আমরা খতিয়ে দেখব। লাইসেন্স যারা পেয়েছে তারা এটা পাওয়ার উপযুক্ত কিনা যাচাই করা হবে। যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো বাতিল করা হবে। এসব লাইসেন্সের অধীনে অস্ত্র থাকলে সেগুলোও বাতিল হবে।’’

‘‘পাসপোর্ট সেবা নিয়ে জনগণের অনেক অভিযোগ আছে। আমাদের অনেকেই অনলাইনে ইলেকট্রনিকভাবে পাসপোর্ট আবেদনে অভ্যস্ত নয়। সেজন্য পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে কিছু লোকজনের সহযোগিতা নেয়, যারা অনলাইনে কাজ করার মাধ্যমে আয়-রোজগার করে। তাদের মাধ্যমে এবং পাসপোর্ট অফিসের কিছু লোকজনের যোগসাজশে জনগণ অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়ে। ভোগান্তি নিরসনে রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের ন্যায় তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হলে সেবা সহজীকরণ হবে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে। তাদের কাজের জন্য তারা যাতে সার্ভিস চার্জ পায়- সেটাও নির্ধারণ করে দেয়া হবে।’’

‘‘জনগণের হয়রানি ও ভোগান্তি নিরসনে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে এটি পরীক্ষামূলকভাবে আমরা চালুর চিন্তাভাবনা করছি। যদি ট্রায়াল অ্যান্ড এরর পদ্ধতিতে এটা টিকে যায়, পরবর্তীতে এটি সারাদেশে চালু করা হবে। এ বিষয়ে শীঘ্রই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে,’’ যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

২০০৬ সালে নিয়োগ বঞ্চিত এসআইদের নতুন করে নিয়োগ প্রদান করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘নিয়োগ বঞ্চিত এসআইদের ফাইল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সারসংক্ষেপ আকারে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে গিয়েছিল। তখন কি কারণে ফাইলটি অনুমোদন হয়নি জানি না। তদন্ত করে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের নিয়োগ প্রদান করা হবে।’’

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেনসহ আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন