ধারের দুই লাখ টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন মোল্লা হত্যা মামলায় বন্ধুসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নিহত ইকরামের বন্ধু শান্ত মিয়া এবং শান্তর বন্ধু সিদ্দিক।
ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘রায়ে মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে হত্যার পর মরদেহ গুমের দায়ে তাদের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, সেইসঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শান্ত মিয়া পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে, সিদ্দিককে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ইট-বালুর ব্যবসায় লগ্নি করতে বন্ধু শান্তকে দুই লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন ইকরাম। বিনিময়ে প্রতি মাসে তাকে হাত খরচার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার ছয় মাস আগে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে টাকা লগ্নি করেও কোনো হাত খরচা পাননি ইকরাম। উল্টো নেশাগ্রস্ত হয়ে ব্যবসার পুঁজি শেষ করে ফেলছিলেন শান্ত। এমন পরিস্থিতিতে টাকা চাওয়ায় ও শান্ত নেশাগ্রস্ত এ তথ্য তার পরিবারকে জানানোয় ক্ষিপ্ত হয় সে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে শান্ত আরেক বন্ধু আবু সিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে ইকরামকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
২০২৩ সালের ৪ মে ইকরাম বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। খোঁজাখুজি করে তাকে না পেয়ে ৫ মে খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। গত ৬ মে খিলক্ষেতের পাতিরা বালুর মাঠ এলাকা থেকে ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একমাত্র ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা কবির হোসেন মোল্লা। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৬ নভেম্বর খিলক্ষেত থানার ইন্সপেক্টর এনামুল হক খন্দকার দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
এরপর ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ২৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

