ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মো. ইলিয়াছ মোল্যা। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার শৌলকোপা বিলের ১০ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে করেছিলেন পেঁয়াজ চাষ। ইতিমধ্যে ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। জমি থেকে পেঁয়াজ উঠলে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টাকার পেঁয়াজ বিক্রি করতেন তিনি। এতে তার লাভ হতো প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
বছর জুড়ে ৫ সদস্যের সংসার চালাতে নির্ভর করছিলেন পেয়াজ চাষের উপর। ফসল ভালো হওয়ায় তা বিক্রি করে লাভবান হবার স্বপ্ন ছিলো দু’চোখ জুড়ে। তবে বিষ প্রয়োগ করে তার স্বপ্নের ফসল নষ্ট করে দেয়ায় এখন দু’চোখ জুড়ে শুধুই অন্ধকার। শুধু মো. ইলিয়াছ মোল্যা নয় এমন দশা আরও অন্তত ৩০ কৃষকের।
তবে কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে আর পুলিশ বলছে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এবারের মৌসুমে মুকসুদপুর উপজেলার শৌলকোপা বিলের কয়েক’শ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেন পেয়াজ চাষীরা। চাষ করা এসব জমিতে পেঁয়াজের ফলনও হয় ভালো। তবে কয়েকদিন আগে রাতের আধারে অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে গোড়াপঁচা বিষ প্রয়োগ করে দুর্বৃত্তরা। এরপরই জমিতে শুরু হয় পেঁয়াজের গোড়াপঁচা। প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে জমির পেয়াজ।
অনেকেই ধার-দেনা, ব্যাংক আর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজের চাষ করেছেন তারা। এখন জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় ধার দেনা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, সারা বছর পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবে সেই চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। ফসল হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। ফলে জমির চাষাবাদকারী কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
ঘটনার পরই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আজাদ ফকিরের ছেলে জাহিদ ফকির পশারগাতী ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের হান্নু শেখকে বিবাদী করে মুকসুদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক বাশার মোল্যা বলেন, ফরিদপুরে সালথা থেকে মুকসুদপুরে জমি নিয়ে আমরা পেঁয়াজ চাষ করেছি। কেউ ২, কেউ তিন বা কেউ ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। পেয়াজ চাষ করতে আমাদের ইতিমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছে। আর কয়েবদিন পর এসব পিঁয়াজ জমি থেকে উঠিয়ে বিক্রি করবো। এরই মধ্যে বিষ প্রয়োগ করে পেঁয়াজের ক্ষতি করলো। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলাম।
অপর ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মো. জাহিদ ফকির বলেন, আমরা ধার দেনা করে এসব জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কয়েকদিন পর এসব পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে লাভবান হবার আশায় ছিলাম। কিন্তু দুর্বৃত্তরা আমাদের সেই আশা নষ্ট করে দিলো। এখন আমরা কিভাবে ধারদেনা শোধ করবো আর কিভাবেই পরিবার নিয়ে চলবো সেই চিন্তায় দিন কাটছে। এখন আমাদের সরকারি সহায়তা না দিলে আমাদের সর্বশান্ত হতে হবে।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পেঁয়াজের জমিগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে জমিতে প্যারাকুয়েট নামক আগাছানাশক ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে পেঁয়াজের গাছ শুকিয়ে মারা যাবে এবং পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাবে। এসব জমিতে কারবেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক দুইদিন পরপর স্প্রে, কুইক পটাশ স্প্রে ও গাছ একটু রিকভার করলে পিজিয়ার স্প্রে করলে কিছুটা ক্ষতি কম হবে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, বিষের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের কিভাবে প্রণোদনা দেয়া যায় সেটি চিন্তা করা হচ্ছে।
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

