ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত এমপি-মন্ত্রীরা। এদিন সকালে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিকেলে শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার সদস্যর। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের শপথ।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আর সকালে এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ পড়ানোর জন্য সিইসিকে চিঠি দিয়েছে সংসদ সচিবালয়। চিঠিটি পেয়েছেও ইসি। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছেন ১ হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি অতিথি। মেগা ইভেন্ট সামনে রেখে দক্ষিণ প্লাজায় চলে কর্মযজ্ঞ। এদিকে, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠি একটু আগেই আমরা পেয়েছি।’
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। কয়েক দফায় শপথ পাঠ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গ্রুপ ধরে এলে গ্রুপভিত্তিক হবে।
নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানান, মঙ্গলবার সকালে দুই দফায় শপথ হবে। একটি হলো সংসদ সদস্যদের শপথ এবং পরবর্তীতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য গাড়ি ও দেহরক্ষী থাকে। পাশাপাশি তার বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হয়, তার অফিসকে এলার্ট করতে হয়, অফিসার-কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হয়। এসব প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব থেকে মন্ত্রিসচিব পদে নিয়োগ পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের একটি যুগসন্ধিক্ষণে বিশাল দায়িত্ব পড়েছে। আমি আমার সাধ্যমতো এটির ভার মেটানোর চেষ্টা করব। আগে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছি, সেভাবেই কাজ করব।
এদিকে, শপথ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিস্পোজাল ও কে-নাইনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট। শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় এরইমধ্যে দক্ষিণ প্লাজাজুড়ে সুইপিং করেছে বোম্ব ডিস্পোসাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা পোশাকে অবস্থান করছেন গোয়েন্দারা। সংসদের প্রবেশপথ ও ভেতরে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা। এ ছাড়াও স্ট্যান্ডবাই থাকবে বিশেষায়িত সব ইউনিট। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বাসা থেকে সংসদের দক্ষিণ প্লাজার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় থেকেই দেওয়া হবে নিরাপত্তা। প্রোটোকলের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে অর্ধশত গাড়ি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে রুটকেন্দ্রিক এবং সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় থাকবেন পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। কোনো শঙ্কা না থাকলেও নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, সভা হয়েছে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ, র্যাব, বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো থ্রেট আশঙ্কা করছি না। এটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে।
বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন। নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। গত শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছে।

