আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী এবং গণফোরামের সভাপতি মফিজুল ইসলাম খান কামালসহ অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাও রয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি কথিত ‘মঞ্চ ৭১’ নামক সংগঠনের ব্যানারে নানাভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে পতিত সরকারের নেতাকর্মীরা।
এরই অংশ হিসেবে এদিন ‘মঞ্চ ৭১’ একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। যদিও আটকের ঘটনার আগ পর্যন্ত তিনি আসেননি। এছাড়া অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সভাপতিত্ব করার কথা থাকলে তিনিও উপস্থিত ছিলেন না। এই অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। জনতার বাঁধার মুখে মঞ্চ ৭১ এর গোলটেবিল বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়।
জানা যায়, গোলটেবিল অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলন নিয়ে নানা বিতর্কিত বক্তব্য দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ পেলে স্থানীয় ছাত্র-জনতা অনুষ্ঠান স্থলে জড়ো হয়ে বাঁধা দেয়। তারা এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি সভাপতি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ আয়োজকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে লতিফ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের এ আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’।
জানা যায়, মঞ্চ ৭১-এর অনুষ্ঠান আয়োজনের খবর পেয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে আল আমিন রাসেলের নেতৃত্বে কয়েকজন অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে ঘেরাও করেন। তারা লতিফ সিদ্দিকী, গণফোরামের সভাপতি মফিজুল ইসলাম খান কামালসহ উপস্থিত অন্যদের অনুষ্ঠানস্থলে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে লতিফ সিদ্দিকী ও মফিজুল ইসলাম খান কামালসহ ১০/১২ জনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি একজন অংশগ্রহণকারী। দল-মতের সব মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকা হয়েছে। আমরা প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। লতিফ সিদ্দিকী এসেছেন। কামাল হোসেন আসেননি। ২০-২৫ জন ছেলে এসে হট্টগোল করেন। আমাদের ঘিরে ফেলে। তবে কারও গায়ে হাত দেয়নি।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবির নামে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, নতুন প্রজন্ম ও ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ মঞ্চ গঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না এ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় করছেন। গত ৫ আগস্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্ল্যাটফর্মটির আত্মপ্রকাশের কথা জানানো হয়।
তবে ইতোমধ্যেই সংগঠনটি নানা সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারণ ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই সংগঠনের আড়ালে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ও সহযোগীদের একত্রিত করা এবং তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে সুযোগ বুঝে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার ষড়যন্ত্রেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খূলনা গেজেট/এনএম