Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

বৌলতলী সেতু পাল্টে দিচ্ছে গোপালগঞ্জের ২০ গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক চিত্র

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের জীবন যাত্রার উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে মধুমতি বিলরুট চ্যানেলের উপর নির্মিত বৌলতলী সেতু। ইতিমধ্যে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন শুরু হয়েছে। বছরের পর বছর যাতায়াতের সীমাহীন কষ্ট, সময়ের অপচয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির অবসান ঘটিয়ে এখন এই সেতুটি হয়ে উঠেছে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাইলফলক।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী, সাতপাড়, সাহাপুর ও করপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল মধুমতি বিলরুট চ্যানেলের উপর নির্মিত বৌলতলী সেতু। এই সেতু না থাকায় প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখে পড়তে হতো এসব গ্রামের কয়েক লাখ মানুষকে। নদী পারাপারে প্রতিদিনের ভোগান্তি, রোগী পরিবহনে দেরি, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো।

গোপালগঞ্জ এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের ১২ জুলাই শুরু হয় সেতুটির নির্মাণকাজ। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে পশ্চিম পাড়ের এপ্রোচ নির্মাণের জন্য গ্রামবাসীর জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় কাজের সময় বাড়াতে হয় কয়েকবার। শেষ পর্যন্ত আরো ৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় ২০টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তাবায়ন হয়েছে। এখন আর নদী পারাপারে প্রতিদিনের ভোগান্তি, রোগী পরিবহনে দেরি, শিক্ষার্থীদের কষ্টের যাত্রা যেন এখন সবই অতীত। আর কাউকে খেয়াঘাটে মাঝির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। নৌকায় করে রোগী এনে এ্যাম্বুলেন্সে তোলার প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সরাসরি গাড়িতে চড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে। এই পরিবর্তন শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তব।

সেতুটি চালু হওয়ার পর শুধু ব্যক্তি বা পরিবার নয়, সমগ্র এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে গেছে। বেড়েছে জমির দাম, কৃষিপণ্য ও মাছ দ্রুত বাজারজাত হওয়ায় লাভ বেড়েছে, এবং কমেছে বেকারত্ব। স্কুল-কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, চিকিৎসা গ্রহণের হার বেড়েছে, ফলে সামাজিক উন্নয়নও ঘটছে।

বৌলতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, আগে নদীর দুই পাড়ে থাকা অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ যাতায়াতে সীমাহীন হয়রানীর শিকার হতো। তবে সেতুটি নির্মান হওয়ায় এখন এই এলাকার মানুষ গ্রামে থেকেও শহরের মতো সুবিধা পাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল হক বলেন, নতুন রাস্তা বা সেতু এলাকার মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বৌলতলী সেতুও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানে ২০ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি পরিবর্তন এসেছে, যা আর্থিক, সামাজিক ও মানবিক সবদিক থেকেই ইতিবাচক। মধুমতি বিলরুট চ্যানেলের উপর বৌলতলী সেতুটি কেবল একখ- কংক্রিটের সেতু নয়, এটি এই এলাকার মানুষের আশা, স্বপ্ন ও উন্নয়নের প্রতীক।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন