দেলোয়ারকে অস্ত্র মামলায় ২ দিনের রিমান্ড

নোয়াখালিতে গৃহবধূকে নির্যাতন: প্রধান আসামি বাদল ও সোহাগকে মোট ৯ দিনের রিমান্ড

গেজেট ডেস্ক

নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি বাদলকে দুই মামলায় ৭ ও ইউপি সদস্য সোহাগকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার তাদের আদালতে তুলে বাদলের দুই মামলায় ১০ দিন ও ২০ দিন আর সোহাগের ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করে।

অপরদিকে এ ঘটনায় আলোচিত দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান মো. দেলোয়ার হোসেনকে অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’দিনের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে দেলোয়ারকে সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক ফাহমিদা বেগম দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত রোববার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন শিমরাইল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে বাসে তল্লাশি চালিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় তাঁর দেহ তল্লাশি করে করে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাব-১১-এর ডিএডি আব্দুল্লাহ শেখ বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

দেলোয়ারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দেলোয়ারের মাছের খামারে র‌্যাব ১১-এর একটি টিম অভিযান চালায়। এ সময় ওই মাছের খামার থেকে সাতটি তাজা ককটেল ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে এক গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তাঁর স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখেন দেলোয়ার বাহিনীর বাদলসহ অন্যরা। এরপর তারা গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পরে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে গত রোববার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। সেখানে নয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো সাত-আটজনকে আসামি করা হয়। তবে দেলোয়ারকে আসামি করা হয়নি। এরই মধ্যে দুটি মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই আসামিকে গতকাল ছয়দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন