চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ২১ মাস ছাড়!

গেজেট ডেস্ক

দেশে গত বছর করোনা সংক্রমণের সময় যাদের বয়স ২৮ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি ছিল তাদের সবাই ইতোমধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স হারিয়েছেন। তাই করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ছাড় দিতে যাচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, কারও নির্ধারিত বয়স পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের ২১ মাসের ছাড় সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদনের পরে বয়স শিথিলের জন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি চাকরির নিয়োগে যত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে সেখানে তারা আবেদন করতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম বলেন, করোনা মহামারির কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ চলছে। এর মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়নি। তাই গত বছরের ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ ছিল, তারা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত যত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে সেখানে আবেদন করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাব। তিনি এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, কোভিড আবহে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রয়েছে। তাই চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষিত বেকারদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তাদের বয়সে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে এটি কার্যকর হলে চাকরিপ্রার্থীরা কোভিডকালীন ২১ মাস বয়সের ছাড় পেতে পারেন।’

অবশ্য বয়স ছাড়ের আওতায় থাকছে না বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোভিডকালেও বিসিএসের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তাই বিসিএসকে এই সুযোগের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

এর আগেও অবশ্য বয়স ছাড়ের এমন সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। করোনা সংক্রমণের শুরুতে গত বছরের ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছিল, তাদেরকে পরবর্তী আরও পাঁচ মাস সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দেয় সরকার৷ যদিও এ নিয়ে একটি আদেশ জারি করা হলেও সেটা সব ক্ষেত্রে মানা হয়নি৷

এছাড়া, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আবার বিধিনিষেধ শুরু হলে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১ থেকে ৭ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার।

পরে তা ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ঈদুল আজহার কারণে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। পরে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘কঠোরতম বিধিনিষেধ’ জারি করা হয়। সে মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ‘কঠোরতম বিধিনিষেধের’ মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা ৩২ বছর। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর নিয়োগ দিয়ে থাকে।

খুলনা গেজেট/ টি আই




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন