রাজধানীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অপরাধী হিসেবেই গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা থাকায় কেউ সরকারের উদ্দেশে নানা কথা বলতে পারেন। তবে যে ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেছেন, তিনি কোনো মামলা করেছেন কি না, সেটিও দেখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘তিনি একপর্যায়ে বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা চায়নি, চাইলে নাকি দিতেন। তো যার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়নি, তিনি বলছেন চাইলে দিতেন। তাহলে তো চিহ্নিত কেউ নেই। এরপর তিনি বলছেন বিএনপি চাঁদা চেয়েছে। এটি একটি ঢালাও অভিযোগ। তিনি যদি নির্দিষ্ট মামলা করেন, আমরা সেটা তদন্ত করে দেখব।’
ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্তের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সালমান মুক্তাদির ভুক্তভোগী হয়েছেন, সেটি তারা দেখেছেন। মানিকদী নামপাড়ায় ক্যান্টনমেন্ট থানার অধীনে ৩৫ কাঠার একটি বিতর্কিত জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চলছে।
তিনি জানান, ঘটনার পর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২৫ তারিখ মধ্যরাতের ওই ঘটনার পর পুলিশের অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। অবহেলার কারণে শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুষ্কৃতকারী বা দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক না কেন, আমরা সেটা আমলে নেব না। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অপরাধী হিসেবেই গণ্য করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে তারা আশা করছেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

