সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সরব রয়েছে। সম্প্রতি এ প্লাটফর্মে তারা ছদ্মনামে কয়েকটি পেজ খুলেছে। তারা একের পর এক ঔদ্ধত্যমূলক পোস্ট দিচ্ছে। এমনকি পোস্টে প্রতিপক্ষকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দিচ্ছে তারা। খুলনার আইনশৃঙ্খলার এমন পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের এ ধরনের পোস্টে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক খুললে খুলনার শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের ভিডিও দেখা যায়। এর একটি নগরীর টুটপাড়া এলাকার সন্ত্রাসী নুর আজিম বাহিনী। অপরটি খুলনার বি কোম্পানির নবাবের। সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছে নুর আজিম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন নামে পেজ খুলে বি কোম্পানির নবাবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
ভিডিও বার্তায় বাহিনী প্রধানের বক্তব্য ছিল আপনারা যাকে নবাব নামে চেনেন তিনি শান্তির নগরী খুলনাকে অশান্তিতে পরিণত করেছেন। মাদকের সহজ লভ্যতার কারণে খুলনায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। মাদকে সয়লাবের কারণে অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থমকে গেছে। নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফেরাতে নুর আজিম ভাই প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। তিনি সবাইকে ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরদিকে, বি কোম্পানির নবাব খুলনার বিভিন্ন অবহেলিত সড়ক সংস্কার, গরিব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা এবং খাদ্য সহায়তা প্রদান করে তার ভিডিও বি কোম্পানির পেজে প্রচার করছে। নবাবের এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিওতে অনেকেই বাহবা জানিয়ে কমেন্টস করছে।
তবে খুলনা মহানগর ও জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষ যখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলির প্রচারণা অনেবটা ভাবিয়ে তুলছে। খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এমন ১৩টি পেজের সন্ধান পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে নগরীর কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। মব সংস্কৃতির কারণে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আর এ সুযোগে খুলনার কিশোর গ্যাং মাথা চড়া দিয়ে ওঠে। ঘটতে থাকে একের পর এক হত্যাকাণ্ড। নগরীর অলি-গলিতে গড়ে ওঠে মাদকের আখড়া। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্পটগুলোতে মাদক বিক্রি হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই বাহিনীর ভিডিও বার্তা প্রচার নিয়ে তারা শঙ্কিত। খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ নাজুক। তারা পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্ (ভারপ্রাপ্ত) এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনায় বায়বীয়। ফেসবুকে কয়েকজন সন্ত্রাসী বিভিন্ন ভিডিও বার্তা ছাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, এগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ফোনে বা ভিডিওতে কেউ হুমকি দিলে ভয় পেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তারা সুযোগ খুঁজে। সুযোগ দিলে পেয়ে বসবে। এমন কোনো তথ্য পেলে পুলিশকে জানাতে হবে। তাছাড়া মানুষকে সচেতন ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
খুলনা গেজেট/এনএম

