নগরীর আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতী কুয়েট রোডে অবস্থিত খুলনা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)। যুব মহিলাদের বিভিন্ন কারিগরি ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে ১৪টি ট্রেডে সাড়ে তিন শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী রয়েছে। ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ‘মোটর ড্রাইভিং উইথ অটোমেকানিক্স’ কোর্সটি নারী প্রশিক্ষণার্থীদের পেশাদার ও দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মির্জা ফিরোজ হাসান জানান, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রটিতে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। তিন মাস মেয়াদী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক বিষয়ের পাশাপাশি গাড়ির কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ বা অটোমেকানিক্সের ওপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ভর্তিকৃত এক হাজার ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে এক হাজার ১৩ জন সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৬৬০ জন স্বাবলম্বী হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে চালক হিসেবে কর্মরত আছে আরও ৬০ জন। এখানে প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকেই অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
এ কেন্দ্রের ‘ড্রাইভিং উইথ অটোমেকানিক্স’ কোর্সের চতুর্থ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী সুপ্রিয়া কুন্ডু অতিসম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) মহিলা অপারেটর (চালক) পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং অত্যন্ত দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় ‘পিংক মহিলা বাস সার্ভিসের’ চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ড্রাইভিং উইথ অটোমেকানিক্স কোর্সের ট্রেড ইনচার্জ ও ইনস্ট্রাক্টর (তাত্ত্বিক) আল মাহবুব বলেন, আমাদের হাত ধরে ড্রাইভিং ও অটোমেকানিক্সের প্রতিটি টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি শেখা সুপ্রিয়া আজ জাতীয় পর্যায়ে বাস চালাচ্ছেন। এরচেয়ে আনন্দদায়ক ও গর্বের অনুভূতি একজন শিক্ষকের জন্য আর হতে পারে না। স্টিয়ারিং হুইলে তাঁর এই দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রমাণ করে যে সঠিক প্রশিক্ষণ ও ইচ্ছা থাকলে নারীদের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জই অসম্ভব নয়। সুপ্রিয়ার এই গৌরবময় অর্জন খুলনা মহিলা টিটিসির জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি। এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রশিক্ষণরত ও ভবিষ্যৎ সকল নারী প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এক অভাবনীয় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে খুলনা মহিলা টিটিসি আরও সুদূরপ্রসারী অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মির্জা ফিরোজ হাসান।
খুলনা গেজেট/এনএম

