বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। পুনরায় দাম বৃদ্ধির আশায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বোতলজাত এ পণ্য খুচরা ব্যবসায়ীরদের নিকট সরবরাহ সংকট রেখেছে। দোকানিরা অর্ডার দিয়ে যথা সময়ে পাচ্ছেন না নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্য। সরকারি মূল্য বৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট না হয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীরা আরও বৃদ্ধির আশায় চক্রান্ত করছে বলে দাবি করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। যা গত এক সপ্তাহ আগে ১৯৯ টাকা ছিল। একইভাবে দুই লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৪০৮ টাকা এবং ৫ লিটার তেলের দাম ৯৭০-৯৮০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এতৎসত্ত্বেও বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
নগরীর মিস্ত্রীপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে চাহিদা মতো তেল পাচ্ছেন না তিনি। তেল নিতে গেলে তার সাথে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কোম্পানি থেকে নিতে হয়। পণ্যগুলো বিক্রি না হলে থেকে যায়।
একই বাজারের অপর ব্যবসায়ী রুস্তুম বলেন, বাজারে ফ্রেস, রূপচাঁদা তেল নেই। অর্ডার দিলে যথা সময়ে পাওয়া যাচ্ছেনা। সরকার প্রতি লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ালেও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না।
বড় বাজারের ব্যবসায়ী উত্তম কুমার বলেন, বোতলজাত সয়াবিনের সংকট ব্যাপক রয়েছে। তবে কতদিন থাকবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি এ দোকানি।
তবে মা মনষা ভাণ্ডারের কর্মকর্তা মৃন্ময় বণিক বললেন ভিন্ন কথা। তার দোকানে তেলের কোনো সংকট নেই। তবে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা দাম বৃদ্ধির আগাম আভাস দিয়েছেন তাকে। তারা তাকে জানিয়েছেন, গ্যাস সংকটের কারণে তেল উৎপাদনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আগামীতে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে এ কর্মকর্তা জানান।
একই বাজারের ব্যবসায়ী ইলিয়াজ স্টোরের ব্যবস্থাপক আজাদ সরদার বলেন, বসুন্ধরা, ফ্রেস, ও তীর কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার থেকে মালের আমদানি কম। এক মাস আগে বসুন্ধরা কোম্পানি তেল দিবে বলে টাকা নিয়ে আর তেল দেয়নি।
নিউ মার্কেটের সাকিব স্টোরের মালিক মোঃ মনি জানান, যুদ্ধের পর থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দেয়। সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর সরকার এ পণ্যর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বডি রেট বাড়লেও বাজারে বোতলের সংকট থেকে যাচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না তিনি।
একই বাজারের অপর ব্যবসায়ী মোঃ মাহফুজ বলেন, সরকারিভাবে দাম বৃদ্ধির পর নতুন রেটের মাল তিনি দোকানে তোলেন নি। এক সপ্তাহ আগে রূপচাঁদা ও তীর কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে অর্ডার দিয়ে এখনও তা দিয়ে যাননি তারা।
নিউ মার্কেটের ক্রেতা শামীম বলেন, সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে। কিন্তু আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের তো আয় বাড়েনি। এমনিতেই সংসারে সবসময় চাপ থাকে। কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু তেলের দাম আর কমে না। তবে দাম বাড়ানোর পর বোতলের তেলে পাওয়া যাবে না এটা ঠিক না। তবে পুনরায় দাম বৃদ্ধি আশায় এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বোতলজাত এ পণ্য মজুত রেখেছে আগাম দাম বৃদ্ধির আশায়। তিনি সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা গেজেট/এনএম

