অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে সরকার

খুলনায় এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নতির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক খুনের ঘটনা এবং খুলনায় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার ও পুলিশ সদরদপ্তর। খুলনা অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান ও কাক্সিক্ষত উন্নতি সাধনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এছাড়াও অতিরিক্ত আইজিপি, সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও এসপিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় খুলনার পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান, ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান ও পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের কাছে নিজ এলাকার বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণ ও প্রতিকারে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে- জানতে চাওয়া হয়। খুলনার কমিশনার ও ডিআইজির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি নীতিনির্ধারকরা। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত ও দৃশ্যমান উন্নতি সাধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়।

রাজারবাগে অনুষ্ঠিত সভায় এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সভায় অতিরিক্ত আইজি, সব মহানগর পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন। পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির।

একাধিক সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান আরও উন্নতি চেয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। এ লক্ষ্যে পুলিশকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। সভায় বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করছে না। তাহলে কেন জনপ্রত্যাশামাফিক কাক্সিক্ষত উন্নতি হবে না? পুলিশের জনবল বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেটি বাস্তবায়নে কাজও শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খুব দ্রুত খুলনা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠ পর্যায় থেকে আরও শক্ত পদক্ষেপ দেখতে চায় সরকার। সভায় খুলনার ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার ও এসপির কাছে বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ব্যাপারে জানতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডিআইজি বলেছেন, তিনি বিভিন্ন জেলা ও ইউনিট পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা অঞ্চলের পুলিশের আরও এক শীর্ষ কর্মকর্তা অপরাধীদের তালিকা ও টহল বাড়ানোর বিষয় উল্লেখ করেন।

পুলিশ সদও দপ্তর জানিয়েছে, পুলিশ মহাপরিদর্শক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আইজিপি বলেন, সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটার আগেই সে সম্পর্কে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশ দেশের জন্য, জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি স্যারও ছিলেন। সেখানে এক মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে খুন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি বলেন, সভার আগে আমি মাত্র তিনটি কার্যদিবস পেয়েছিলাম। আমাকে প্রফেশনালি কাজ করতে বলা হয়েছে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে নিজের কর্মপরিকল্পনার তুলে ধরে পুলিশ সুপার খুলনা গেজেটকে বলেন, প্রথমেই মাদক দিয়ে শুরু করতে চাই। কারণ সবকিছুর মূলে এটা। শিগগিরিই অভিযানে নামা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শুধু মাদক সেবনকারী আর খুচরা বিক্রেতাই নয়, আমি ডিলার পয়েন্টেও হাত দিতে চাই। মাদকের মূল নেটওয়ার্ক বের করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে চাই। এ জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাধারণ জনগণ, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চাই। যেটা সভায় আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন আনা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খুলনার রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান খুলনা গেজেটকে বলেন, খুলনা মেট্রো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের বিষয়ে বলা হয়েছে। কেএমপি কমিশনার স্যার মেট্রো এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

জেলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির বিষয়ে ডিআইজি বলেন, জেলায় নতুন এসপি এসেছেন। তিনি কাজ করছেন। এসপিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রূপসায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রূপসা থানায়ও নতুন ওসি। তারা রূপসার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে পুলিশ লাইন্স ও আরআরএফ থেকে পুলিশ আনা হচ্ছে রাত্রীকালীন অভিযানের জন্য। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন