সালমান শাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে ডন

গেজেট প্রতিবেদন

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে, ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান গত ২৪ আগস্ট ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে সিআইডি জানিয়েছে, ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মামলার ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়েও তথ্য মিলতে পারে বলে তদন্ত সংস্থার দাবি।

এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কীভাবে, কেন এবং কার ইন্ধনে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর হয়।

যেভাবে হত্যা মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিবার শুরু থেকেই মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে।

দীর্ঘ সময় পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে। এখন ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আজ আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন