ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’ এর বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আব্দুল আল মামুন সাতক্ষীরা শহরের আমতলা এলাকার ডক্টর আব্দুর রহিমের ছেলে।
আল মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, গত বুধবার পরিবারের সাথে মামুনের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। গত শনিবার দুপুরের দিকে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ভারতের ওড়িশা উপকূলে বঙ্গোপসাগরে একটি জাহাজ ডুবির খবর পান তারা। তবে এখন পর্যন্ত মামুনের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
পরিবারের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আম্মুর আগে থেকেই হার্টের সমস্যা আছে, আব্বুরও বয়স হয়েছে। মামুনের ঘটনা জানার পর থেকে পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মামুনের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার। মামুনের বিষয়ে এখন কোনো দিক থেকে আপডেট পাচ্ছি না। জাহাজডুবি সংক্রান্ত্র কোনো খবর ইন্ডিয়ান কোস্টগার্ডের পেজে কখন আপডেট হয়, তারা কোনো ব্রিফিং করে কি না সেটার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।
মামুনের খোঁজের বিষয়ে তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করছেন বাল্যবন্ধু সাদাত আল কাবিজু। তিনি জানান, গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে ‘এমভি ওশান উইনার’ জাহাজে যোগ দেন মামুন। ওড়িশা উপকূল থেকে জাহাজ ছাড়ার রাতে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তার সাথে মামুনের সর্বশেষ কথা হয়। তারপর জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে তার সাথে আর কোন যোগাযোগ হয়নি।
সাদাত বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির কাছেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, জাহাজ ডুবির ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এদিকে দ্র্রুত মামুনের সন্ধান পাওয়ার আশায় তার পরিবার সয়শ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

