সরকারের ১৮০ দিনে অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: ১১ দলীয় ঐক্য

গেজেট প্রতিবেদন

সরকারের ১৮০ দিনে অব্যবস্থাপনার কারণে জনভোগান্তি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকারের ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন জোটের নেতারা। রবিবার (২৩ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

ব্রিফিংয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দেশবাসীও এতে অংশ নেবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

নেতারা বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ দেশে নানা সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনই অব্যবস্থাপনায় কেটেছে। তাদের দাবি, সরকারের ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভয়াবহ হয়েছে। দেশে চাঁদাবাজির ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। কৃষকরা সার সংকটে পড়েছেন। এসব সমস্যা সরকার স্বীকার না করে জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা করছে। দেশ পরিচালনায় সরকারের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধীদের দেওয়া প্রস্তাবও সরকার অগ্রাহ্য করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন। তবে যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান বলে জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ১১ দলের নেতারা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়ন করা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে নজিরবিহীন দলীয়করণ করছে। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মানছে না এবং জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।

নেতারা বলেন, সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১১ দল উপযুক্ত জবাব দেবে। লংমার্চে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা এলে তা প্রতিহত করে কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সূচনা উপলক্ষে রাজধানীতে জনসমাবেশ করার ঘোষণা দেন নেতারা। লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা হবে বলেও জানান তারা। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তারা জানান।

নেতারা বলেন, তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করায় জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তারা সতর্ক করে বলেন, সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার যেন কোনো ধরনের টালবাহানা না করে। সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধনের দিকে এগোলে সরকারের পরিণতি ভালো হবে না।

এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকটের কারণে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন নেতারা। এসব সমস্যা সমাধানকেও আন্দোলনের অন্যতম দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন