যাদবপুর দিচ্ছে গেরুয়ায়া সন্ত্রাস নিপাত যাক। এই দাবিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এস এস-বিজেপি-এবিভিপি সহ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের গৈরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেই পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মহামিছিল ঢল।
এই মহামিছিলকে সমর্থন করে করে সামিল হয়েছে বিভিন্ন বামপন্থি ছাত্র সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান পড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সংগঠন, আরজি কর -এর অভয়া মঞ্চ, কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আর এস এস-বিজেপি-এবিভিপির সিণ্ডিকেটরাজ বন্ধ করতে হবে, পুলিসকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাসক দলের খবরদারি বন্ধ করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোকে যারা ভূলুণ্ঠিত করলো, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে, ধর্মীয় বিভাজন বন্ধ করতে হবে।
এদিন মিছিল শুরু হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংলগ্ন ক্যান্টিনের সামনে থেকে। এই মহামিছিল কার্যত জনজোয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে শেষ আবার সেই খেলার মাঠের ক্যান্টিনে শেষ হয়ে।
এদিন মিছিল শেষে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গবেষক, অধ্যাপক, প্রাক্তন অধ্যাপক , প্রাক্তন ও বর্তমান পড়ুয়ারা গলা উঁচু করেই বলেন, যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি ও ছাত্র-যুবদের শক্তিশালী আন্দোলন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে।
আমরা আবার জানিয়ে দিতে চাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়ে দিতে চাই, পশ্চিমবঙ্গে বা গোটা ভারতে আবার এমন ছাত্র-যুব আন্দোলন হবে, তখন এরাও পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন। বারুইপুর-বাঁকুড়া সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্নপ্রান্তে শাসক বিজেপি-আর এস এ যেভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে তারা নিজেরাই এক একটা গুন্ডা।
পশ্চিমবঙ্গে তিনমাসের শাসক বিজেপিকে মানুষ চিনে নিয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া কোনোভাবেই এই গুন্ডাগিরি মানবে না। এটাই একটা মহামিছিল নয়, বিজেপি-আর এস এস-এবিভিপির বিরুদ্ধে আমাদের লাগানোর আন্দোলন চলবে। এটাই আমাদের শেষ কথা।
খুলনা গেজেট/এএজে

