ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সেন্টুকে কারাগারে প্রেরণ

৫ আগস্টের পর ‘আঙুল ফুলে কলা গাছ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য এসএম নাসির উদ্দিন সেন্টু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে জেলা স্টেডিয়াম ও ক্লাব পাড়ায় টোকাই হিসেবে পরিচিত ছিল। টাউন ক্লাবে একসময়ে জুয়ার বোর্ডও চালাতেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যায় সে। বিএনপির তকমা লাগিয়ে নগরীর বিভিন্নস্থানে লুটপাট করেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। টোকাই থেকে বনে যায় কোটিপতি। নিজের কর্তৃত্ব সবখানে জাহির করার জন্য বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের সাথে ছবি তুলতেন। এমনকি প্রশাসনের প্রধানদের সাথে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিতেন। আর এসব ছবি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে রাজনীতির পাশাপাশি শুরু করেন মাদকের রমরমা কারবার। সর্বশেষ গত শনিবার সকালে নগরীর মিয়াপাড়া থেকে মাদকসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার মুখোশ উন্মোচিত হয়।

গতকাল রবিবার খুলনা জেলা স্টেডিয়াম ও ক্লাব পাড়ার কয়েকজন বলেন, পতিত সরকারের আমলে তার পরিচয় দেওয়ার মতো কিছুই ছিলনা। বাবা খোকন মিয়া রিকশা চালাতেন এবং মা মনু বেগম উল্লিখিত এলাকার কয়েকটি হোটেলে পানি সরবরাহ করতেন। টাউন ক্লাবে জুয়ার বোর্ড চালানের পাশাপাশি ইয়াবা ও ফেন্সিডিল বিক্রি করত। এর আগেও মাদক বিক্রির অপরাধে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হন সেন্টু।

তারা আরও বলেন, জামিন পেয়ে তিনি ঢাকায় চলে যান। এক বিএনপি নেতা সংস্পর্শে আসেন। তার ভিডিও ধারণ করতেন। এরপর জিয়া প্রজন্মদল খুলনা মহানগর কমিটি গঠন করে তার সভাপতি হন সেন্টু। কিন্তু খুলনার নেতাদের কাছে গুরুত্ব না পেয়ে জেলা যুবদলের সদস্য পদ নিতে বিভিন্নস্থানে যোগাযোগ করেন। এক সময় বিএনপি’র এক কেন্দ্রীয় নেতার নেক নজরে পড়েন তিনি। তার সম্পর্কে কিছু না জেনেই তাকে জেলা যুবদলের সদস্য পদ দেওয়া হয়। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেন্টু আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তিনি প্রায় নগর বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এ কারণে তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেও অনায়াসে পার পেয়ে যেতেন।

আরও জানা গেছে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গত বছর জেলা স্টেডিয়ামের উত্তর পাশের জায়গা দখল করে সেখানে হোটেল নির্মাণ করেন সেন্টু। প্রথমে অর্ধেক দখল করা হলেও পরবর্তী এক কাঠা জমি দখল করে পুরো জায়গা জুড়ে হোটেল নির্মাণ করে। হোটেলটি তার মামা ফারুক পরিচালনা করেন। দুপুরে খোঁজ নিতে হোটেলের ভেতর গেলে মামা ফারুকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নাসির উদ্দিন সেন্টু মিয়াপাড়া এলাকায় সাবেক বিএনপি নেতা রিয়াজের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আসতেন তার কাছে। আশপাশের মানুষ জানতেন না এত মানুষের ভিড় কীসের জন্য। গ্রেপ্তারের পর সকলে বিষয়টি আঁচ করেন। রবিবার দুপুরে বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা গেছে শুনশান নীরবতা। কেউ এখন আর এ বাড়ির সামনে ভিড় করছে না।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সান্নিধ্যে থাকা অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা তাদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছে। প্রয়োজন হলেই তাদেরও আইনের আওতায় নেবেন তারা।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, রবিবার দুপুরের পর তাদের চারজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন